খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুমপুর নতুনপাড়ায় কওমি জুট মিলে এক কোণের বারান্দায় বসবাস করেন ৬৫ বছর বয়সী সালেয়া বেগম। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘সালে পাগল’ নামেই পরিচিত। প্রতিদিন সকালে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে বের হন, বিকেলে ফিরে আসেন নীরবে। তবে সম্প্রতি তার ভিক্ষা করে জমানো টাকার খবরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সালেয়ার কাছে দুটি বস্তা ভর্তি টাকা পাওয়ার পর শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়রা তার কাছ থেকে আরও একটি বস্তা উদ্ধার করেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গুনে দেখা যায়, তৃতীয় বস্তাটিতে ছিল ৪৭ হাজার ৮২৬ টাকা।
এর আগে উদ্ধার হওয়া দুই বস্তা থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ টাকা। সব মিলিয়ে তিন বস্তা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যবহারযোগ্য টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ টাকা।
সালেয়ার একমাত্র মেয়ে শাপলা খাতুন বলেন, ‘মা একা থাকতে চাইতেন। আমরা জানতামই না, তিনি এত টাকা জমিয়েছেন। এখন মা অসুস্থ, এই টাকা দিয়েই তাঁর চিকিৎসা করানো হবে।’
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহরিয়ার শিপু বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও একটি বস্তা উদ্ধার করে ৪৭ হাজার ৮২৬ টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো সালেয়া বেগমের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। আর যদি তিনি মারা যান, অবশিষ্ট টাকা তাঁর মেয়েকে দেওয়া হবে। একজন ভিক্ষুকের কাছেও এত টাকা থাকতে পারে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’
জানা গেছে, সালেয়া বেগমের স্বামী বহু বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি একাই জীবনযাপন শুরু করেন। চার দশক ধরে ভিক্ষা করে সামান্য টাকায় নিজের মতো করে বেঁচে ছিলেন তিনি। কওমি জুট মিলে একটি ছোট বারান্দাই ছিল তাঁর আশ্রয়, সেখানেই লুকানো ছিল তাঁর সঞ্চিত তিন বস্তা টাকা।
খবরওয়ালা/এন