খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইউরোপিয়ান ফুটবলে দীর্ঘ এক যুগ ধরে সোনার জুতো বলতে বোঝানো হতো প্রায় নিশ্চিতভাবেই লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম। ২০০৭–০৮ থেকে ২০১৮–১৯—এই টানা ১২ মৌসুমে মাত্র একবারই এমন হয়েছে, যখন এই দুই মহাতারকার কেউই ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতেননি। ব্যতিক্রম ছিল ২০০৮–০৯ মৌসুমে দিয়েগো ফোরলান এবং ২০১৩–১৪ মৌসুমে লুইস সুয়ারেজ, যিনি তখন রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কারটি জিতেছিলেন। তবে সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, আর গোল্ডেন শুর লড়াইও এখন নতুন রূপ নিয়েছে।
২০২২–২৩ মৌসুম থেকে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুর প্রতিযোগিতা কার্যত ত্রিমুখী হয়ে উঠেছে। এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তিনজন আধুনিক গোলমেশিন—বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন, রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড। সর্বশেষ তিন মৌসুমে এই তিনজনই একবার করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন। চলতি মৌসুমেও ছবিটা বদলায়নি; আবারও শীর্ষে এই তিন তারকাই, এবং ব্যবধান এতটাই কম যে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠছে নির্ধারক।
ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু আসলে কী? এটি ইউরোপের সব দেশের শীর্ষ লিগ মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলসংখ্যার ভিত্তিতে দেওয়া কোনো সরল পুরস্কার নয়। এখানে গোলের পাশাপাশি বিবেচনায় নেওয়া হয় লিগের মান। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, জার্মান বুন্দেসলিগা, ইতালিয়ান সিরি ‘আ’ এবং ফরাসি লিগ ‘আঁ’-এ প্রতিটি গোলের জন্য দেওয়া হয় ২ পয়েন্ট। তুলনামূলক কম মানের লিগে এই পয়েন্ট নেমে আসে ১.৫ বা ১-এ।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত বুন্দেসলিগায় দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলেই তিনি করেছেন ২১ গোল, যা তাঁকে লিগের শীর্ষ গোলদাতা বানিয়েছে অনেক ব্যবধানে। লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পেও ঠিক সমান ২১ গোল করে শীর্ষে, যদিও তিনি খেলেছেন ২০ ম্যাচ। প্রিমিয়ার লিগে আর্লিং হলান্ড ২৩ ম্যাচে ২০ গোল করে আছেন তালিকার শীর্ষে, তবে কেইন ও এমবাপ্পের তুলনায় সামান্য পিছিয়ে।
এই তিনজনের বাইরে তালিকায় আছেন আরও কয়েকজন। ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো ১৬ গোল নিয়ে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুর পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে, আর বেনফিকার গ্রিক স্ট্রাইকার ভানগেলিস পাভলিডিস ১৯ গোল করেও আছেন তাঁর নিচে। কারণ, পাভলিডিসের লিগে প্রতি গোলের পয়েন্ট ১.৫। আরও চরম উদাহরণ লাটভিয়ার ভিরসলিগা—রিগা এফসির দারকো লেমাজিক ২৮ গোল করেও আছেন ষষ্ঠ স্থানে, কারণ তাঁর লিগে প্রতি গোলের মূল্য মাত্র ১ পয়েন্ট।
নিচের ছকে শীর্ষ দাবিদারদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড় | ক্লাব | লিগ | গোল | ম্যাচ | প্রতি গোল পয়েন্ট | মোট পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| হ্যারি কেইন | বায়ার্ন মিউনিখ | বুন্দেসলিগা | ২১ | ১৯ | ২.০ | ৪২ |
| কিলিয়ান এমবাপ্পে | রিয়াল মাদ্রিদ | লা লিগা | ২১ | ২০ | ২.০ | ৪২ |
| আর্লিং হলান্ড | ম্যানচেস্টার সিটি | প্রিমিয়ার লিগ | ২০ | ২৩ | ২.০ | ৪০ |
| ইগর থিয়াগো | ব্রেন্টফোর্ড | প্রিমিয়ার লিগ | ১৬ | — | ২.০ | ৩২ |
| ভানগেলিস পাভলিডিস | বেনফিকা | পর্তুগিজ লিগ | ১৯ | — | ১.৫ | ২৮.৫ |
| দারকো লেমাজিক | রিগা এফসি | ভিরসলিগা | ২৮ | ৩১ | ১.০ | ২৮ |
এখনো মৌসুমের অনেক ম্যাচ বাকি। কেইন ও এমবাপ্পে পয়েন্টে সমান হলেও ম্যাচ খেলার সংখ্যায় পার্থক্য, আবার হলান্ডের সামনে রয়েছে ৩৮ ম্যাচের লিগে আরও গোল বাড়ানোর সুযোগ। শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন সোনার জুতো হাতে—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মৌসুমের শেষ বাঁশি পর্যন্ত।