খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকায় একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেন (৩৮) নিহত হয়েছেন। নিহত মোশারফ হোসেন স্থানীয় সময় রবিবার রাত নয়টার দিকে তার কর্মস্থলে হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে মোশারফ হোসেন শেষবারের মতো বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। মাহিম জানিয়েছেন, ভিডিও কলে তার বাবা ঈদের কাপড়চোপড় কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পাঠানোর কথাও বলেছেন। এই আলাপচারিতার অর্ধঘণ্টার মধ্যে মোশারফ হোসেনকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হত্যা করা হয়।
মোশারফ হোসেন প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দুই বছর আগে তিনি সর্বশেষ দেশে ফিরেছিলেন। তার দুই সন্তান—মাহিম এবং ছোট ছেলে মিহান—দেশে রয়েছেন। মাহিম বর্তমানে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র, আর মিহান মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।
মোশারফ হোসেনের স্ত্রী কবরী আক্তার সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন, “এখন আমি কীভাবে এই দুই সন্তানকে নিয়ে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?” অন্যদিকে নিহতের বাবা মো. সুজাত আলী বলছেন, “আমার ছেলেকে তো আর পাব না। অন্তত লাশটি দেশে ফেরত চাই, যেন শেষবারের মতো তাকে দেখা যায়।”
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মোশারফের সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা মৃত্যুর খবর তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী জানিয়েছেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”
নিম্নে নিহত মোশারফ হোসেন ও তার পরিবার সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| মোশারফ হোসেন | ৩৮ | স্বামী ও পিতা | সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত |
| কবরী আক্তার | ৩৫ | স্ত্রী | দেশে, শোকাহত |
| মাহিম | ১৪ | বড় ছেলে | নবম শ্রেণির ছাত্র |
| মিহান | ৬ | ছোট ছেলে | মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র |
| মো. সুজাত আলী | ৬৫ | বাবা | মৃত সন্তান শোকগ্রস্ত |
পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন আশা করছে, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায়ের সুযোগ মিলবে। এছাড়া সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করবে।
মোশারফ হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও গ্রামের জন্য গভীর শোকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা নিহতের জন্য প্রার্থনা করছেন এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।