খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
জীবিকার তাগিদে ২০২৫ সালে সাড়ে সাত লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরব গেছেন, যা এক বছরে একক কোনো দেশে বাংলাদেশের প্রেরিত সর্বাধিক কর্মীর সংখ্যা হিসেবে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে জানান, “গত বছর সৌদি আরবে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক গেছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক দেশে এক বছরে সর্বোচ্চ শ্রমিক প্রেরণের ঘটনা।”
বিএমইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে মোট ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক গেছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সৌদি আরবকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। ১৯৭০-এর দশক থেকে এই প্রবাসীরা দেশটিতে কর্মসংস্থান করছেন এবং বর্তমানে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তারা প্রতিবছর বাংলাদেশে পাঁচ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠান।
বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে কর্মী প্রেরণের হার ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৬ লাখ ২৮ হাজার শ্রমিক সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ কর্মী প্রেরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া সৌদি আরবের ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’ প্রবাসীদের পেশাগত দক্ষতা যাচাই করছে এবং সৌদি শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি শ্রমিকদের সুরক্ষা, মজুরি পরিশোধ, কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রকল্প ও নির্মাণ খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ২০২৬ সালে প্রায় তিন লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে প্রেরণার পরিসংখ্যান (২০২৪-২০২৫)
| বছর | সৌদি আরবে প্রেরিত শ্রমিক | বৃদ্ধির হার (%) | মোট বিদেশগামী শ্রমিক |
|---|---|---|---|
| ২০২৪ | ৬,২৮,০০০ | – | ১০,৫০০,০০০ |
| ২০২৫ | ৭,৫০,০০০ | ১৬% | ১১,০০,০০০ |
সৌদি আরবে বাংলাদেশের এই শ্রমিক সমৃদ্ধি কেবল রেমিট্যান্স বাড়ানোর ক্ষেত্রে নয়, বরং দক্ষ শ্রমিকদের স্বীকৃতি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।