খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকৃতির এক বিস্ময়কর খেয়ালে তপ্ত বালুকারাশির দেশ সৌদি আরব এখন সাদা বরফের চাদরে ঢাকা। দীর্ঘ ৩০ বছর পর দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলে এমন বিরল ও ভারী তুষারপাত প্রত্যক্ষ করল বিশ্ব। গত কয়েক দিনের চরম আবহাওয়ার প্রভাবে মরুভূমির ধূসর পাহাড়গুলো এক নিমিষেই রূপ নিয়েছে তুষারাবৃত এক শীতকালীন ভূখণ্ডে। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি কেবল সৌদি আরবেই নয়, বরং সারা বিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল এবং বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় উচ্চভূমিগুলোতে একটি শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে এই পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে তাবুক অঞ্চলের জাবাল আল লজ এবং ট্রোজেনা পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২,৬০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে তুষারপাত শুরু হয়। সাধারণত শুষ্ক ও তপ্ত আবহাওয়ার এই জনপদে এমন হাড়কাঁপানো শীত ও তুষারপাতকে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সৌদি আরবের তুষারপাত ও আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সর্বশেষ ঘটনা | প্রায় ৩০ বছর আগে এমন তুষারপাত দেখা গিয়েছিল। |
| সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঞ্চল | তাবুক (জাবাল আল লজ), হেইল এবং আল-জাউফ। |
| সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | তাবুক ও ট্রোজেনা এলাকায় প্রায় -৪° সেলসিয়াস। |
| প্রাকৃতিক প্রভাব | ভারী বৃষ্টিপাত, শক্তিশালী বাতাস এবং তুষারপাত। |
| উচ্চতা | সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৬০০ মিটার উচ্চতায় তুষার জমা হয়েছে। |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, উটের পাল মরুভূমির বালুর পরিবর্তে সাদা বরফের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা এক অবিশ্বাস্য ও বিরল দৃশ্য। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভাবনীয় মুহূর্তটি উদযাপন করতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। তাবুক এবং হেইল এলাকায় অনেককে স্কিইং করতে এবং বরফ নিয়ে মেতে উঠতে দেখা গেছে। মরুভূমির ধূসর পাহাড়ের ওপর সাদা বরফের আস্তরণ এক চমৎকার বৈপরীত্য তৈরি করেছে, যা দেখতে অনেকটা ইউরোপের কোনো শৈলশহরের মতো মনে হচ্ছে।
তবে এই তুষারপাতের সাথে সাথে ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়াও বয়ে গেছে বেশ কিছু অঞ্চলে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়ার ধরনে এমন পরিবর্তন আসছে। যদিও এটি পর্যটনের জন্য একটি বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে নিওম প্রজেক্টের আওতাধীন ‘ট্রোজেনা’ এলাকাকে ভবিষ্যতে একটি আন্তর্জাতিক উইন্টার স্পোর্টস গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সৌদি সরকারের। এই তুষারপাত সেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার পথে একটি ইতিবাচক প্রাকৃতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপ্রত্যাশিত এই তুষারপাত স্থানীয় জীবনযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটালেও মানুষের উচ্ছ্বাসের কাছে তা গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মরুভূমির তপ্ত রোদে অভ্যস্ত সৌদি নাগরিকরা এখন প্রকৃতির এই শীতল উপহার উপভোগ করছেন। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে হাজার হাজার মানুষ ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে বন্দি করছেন ধবধবে সাদা মরুভূমিকে।