খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিল। সামন্তা বাগদিয়ার গ্রামের জনশূন্য রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব ওত পেতে থাকা দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আরও দুই যুবক তাদের সাথে যোগ দেয়।
অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে এবং হাত বেঁধে ফেলে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপর চারজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পাষবিকতার এখানেই শেষ নয়; নরপশুরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। ধর্ষণের পর কিশোরীকে হুমকি দেওয়া হয় যে, সে যদি এই ঘটনা কাউকে জানায় তবে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। লোকলজ্জা আর প্রাণভয়ের সেই আতঙ্ক কাটিয়ে কিশোরী তার পরিবারকে বিস্তারিত জানালে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগীর ফুফু বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় চারজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার ভোরে অভিযান চালায়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের পরিচয়:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | পিতার নাম | ঠিকানা |
| ০১ | হযরত আলী | ১৮ বছর | হাফিজুর রহমান | গ্রাম: বাগদিয়ার, মহেশপুর |
| ০২ | আসের আলী (রাজু) | ১৯ বছর | আনোয়ার হোসেন | পাড়া: সামন্তা চারাতলা, মহেশপুর |
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি পবিত্র দিনে এমন জঘন্য অপরাধের খবরে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের অপরাধীদের যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে ছাড় দেওয়া না হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল এবং মানবাধিকার কর্মীরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার ভিডিও চিত্রটি যেন কোনোভাবেই ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সাইবার ইউনিট সতর্ক রয়েছে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।