খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
স্বর্ণালঙ্কারের লোভ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে নাটোরের বড়াইগ্রামে দাদিকে টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নাতনির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে পুলিশ নাতনি ফৌজিয়া খাতুন ও তার স্বামী মিনারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ফৌজিয়া খাতুন (১৯) বনপাড়া পৌর এলাকার শাহিনুজ্জামান শাহিনের মেয়ে, আর তার স্বামী মিনারুল ইসলাম (২৫) বড়াইগ্রাম উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের ওয়াহেদুল ইসলামের ছেলে। নিহত মমতাজ বেগম (৭০) ছিলেন ফৌজিয়ার দাদি।
পুলিশ সুপার বলেন, “ফৌজিয়াকে খুব ভালোবাসতেন দাদি মমতাজ বেগম। কিন্তু প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে ইলেকট্রিশিয়ান মিনারুলকে বিয়ে করার পর তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। পরে ঘরে জিনিসপত্র চুরি নিয়ে বকাঝকার জেরে দাদি তাকে বাড়িতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফৌজিয়া হত্যার পরিকল্পনা করে।”
স্বামীর মৃত্যুর পর মমতাজ বেগম একাই বসবাস করতেন নিজ বাড়িতে। দিনে গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম (৪০) আর রাতে প্রহরী কাজী আবু শামা (৬০) তার দেখাশোনা করতেন।
গত রবিবার রাতে সুফিয়া বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর প্রহরী আবু শামা নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন, মমতাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। মুখমণ্ডল থেঁতলানো। প্রতিবেশীদের ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
‘ক্লুলেস’ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নাটোর জেলা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ফৌজিয়ার উপস্থিতি ঘটনাস্থলে শনাক্ত হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে, ফৌজিয়া ও তার স্বামী ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে হরিশপুর বাস টার্মিনাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফৌজিয়া হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে দাদির বাড়িতে গেলে দাদি তাকে তিরস্কার করেন এবং বাড়িতে না আসতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিন ব্যাটারির টর্চলাইট দিয়ে দাদির মুখে একাধিক আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর দাদির হাতে থাকা বালা-চুড়ি, আঙুলের তিনটি আংটি ও গলার সোনার চেইন খুলে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে মিনারুল সেই চেইন নাটোরের এক জুয়েলার্সে বিক্রি করে দেন।
ফৌজিয়া জানান, বিক্রির টাকা দিয়ে নতুন কাপড় কেনেন তারা এবং ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “ফৌজিয়া ও তার স্বামী মিনারুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারমিন মাহমুদ নেলীসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
খবরওয়ালা/এমএজেড