খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
মাদারীপুরের রাজৈরে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূর নাম মাহফুজা বেগম (৩৫)। সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার মজুমদারকান্দি খালপাড় গ্রামের বেপারীবাড়ির একটি আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মাহফুজা বেগম ছিলেন একই গ্রামের শ্রমিক তৌহিদ বেপারীর (৪০) স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত তৌহিদ।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজা রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দি গ্রামের তোফেল বেপারীর মেয়ে এবং তৌহিদ একই উপজেলার মজুমদারকান্দি খালপার গ্রামের সোবাহান বেপারীর ছেলে। তৌহিদ শ্রমিকের কাজ করেন। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জমি বিক্রি করে তৌহিদকে টাকা দেন। কিন্তু কয়েক বছর পর পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য মাহফুজার ভাই আবারও টাকা দেন। তবে রোববার রাতে তৌহিদের পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মাহফুজা ঘর থেকে বের হয়ে যান। তৌহিদ ক্ষুব্ধ হয়ে খুঁজতে বের হন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন।
পরে সোমবার ভোরে গলায় ওড়না পেঁচানো এবং হাঁটু গেরে বসা অবস্থায় মাহফুজার মরদেহ আমগাছের সাথে ঝুলতে দেখে পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে তার বাবার বাড়ির লোকজন রাজৈর থানায় খবর দেন, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগেই অভিযুক্ত তৌহিদসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। তাদের সংসারে তিনটি কন্যা শিশু রয়েছে।
নিহত মাহফুজার ভাই সোবাহান বেপারী অভিযোগ করেন, “তৌহিদের সাথে এক নারীর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে মাঝে মাঝেই আমার বোনকে মারধর করত। রোববার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং মারধরও করে। পরে আমার বোনকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে তৌহিদ। আমি মামলা করব এবং আইনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তৌহিদ বেপারীর সাথে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদেরও সেখানে পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুরের রাজৈর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “আমি সরেজমিনে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”