খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা শুক্রবার রাতের দিকে মনিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আজিজুর রহমান, খ্যাত মুসাব্বির হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃতদের মধ্যে মূল শুটার জিনাত, হত্যার পরিকল্পনাকারী বিলাল এবং আরও একজন সহযোগী রয়েছেন।
ডিএমপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে হত্যাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা সরাসরি মুসাব্বির হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
৪৪ বছর বয়সী আজিজুর রহমান পূর্বে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
হত্যা সংঘটিত হয় বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে, ঢাকা শহরের তেজগাঁও থানাধীন ওয়েস্ট তেজতুরি বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিচয়হীন বন্দুকধারীরা আজিজুরের উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরও তার মৃত্যু হয়। এই অকালমৃত্যু স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ এবং সমর্থকদের মধ্যে শোক ও ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে।
আজিজুরের বিধবা সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে চার থেকে পাঁচ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে প্রধান ঘটনাবলী ও গ্রেপ্তারদের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা বিবরণ | স্থান | গ্রেপ্তারকৃতরা | ভূমিকা |
|---|---|---|---|---|
| ০৮ জানুয়ারি 2026, রাত | আজিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যা | ওয়েস্ট তেজতুরি বাজার, তেজগাঁও | – | – |
| ০৯ জানুয়ারি 2026, দুপুর | জানাজা ও শোক সমাবেশ | নয়াপল্টন, ঢাকা | – | – |
| ০৯ জানুয়ারি 2026, রাত | ডিএমপি অভিযান ও গ্রেপ্তার | মনিকগঞ্জ ও গাজীপুর | জিনাত, বিলাল, তৃতীয় সহযোগী | শুটার ও পরিকল্পনাকারী |
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হত্যাকারীরা নিহতের সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে, যাতে আরও বিস্তারিত তথ্য এবং ষড়যন্ত্রের অন্য দিকগুলো উন্মোচিত করা যায়।
ঘটনাটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আরও অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।