খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে চৈত্র ১৪৩২ | ৪ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ ৪ এপ্রিল—একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে, মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল প্রেক্ষাপটে, ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় নিজের প্রতিষ্ঠিত সাধনা ঔষধালয়ের সদর দপ্তরের সামনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গুলিতে শহীদ হন প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রবিশারদ ও শিক্ষাবিদ যোগেশচন্দ্র ঘোষ।
১৮৮৭ সালে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা পূর্ণচন্দ্র ঘোষের স্নেহ ও মূল্যবোধে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী সন্তান শৈশব থেকেই জ্ঞানচর্চায় ছিলেন অনন্য। ১৯০২ সালে ঢাকার কে. এল. জুবিলী স্কুল থেকে এন্ট্রান্স এবং ১৯০৪ সালে জগন্নাথ থেকে এফ.এ. পাস করেন। পরবর্তীতে কুচবিহার কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯০৮ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নশাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি জ্ঞান বিতরণকে বেছে নেন ব্রত হিসেবে। ১৯০৮ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত ভাগলপুর কলেজে এবং ১৯১২ থেকে দীর্ঘ সময় জগন্নাথ কলেজ-এ রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ সালে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন—যেখানে তার প্রজ্ঞা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুপ্রেরণা হয়ে ছিল।
অবসর গ্রহণের পরও থেমে থাকেননি এই মহাপুরুষ। তিনি লন্ডন কেমিক্যাল সোসাইটির ফেলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেমিক্যাল সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
শুধু শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন মানবতার অকৃত্রিম সেবক। রোগব্যাধির কারণ, লক্ষণ ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসার তত্ত্ব নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার বিশ্বাস ছিল—স্বল্প খরচে, দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে মানুষের চিকিৎসা সম্ভব। এই বিশ্বাস থেকেই ১৯১৪ সালে ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন সাধনা ঔষধালয়—একটি স্বপ্ন, যা পরে পরিণত হয় ঐতিহ্যের মহীরুহে।
দেশীয় গাছপালা থেকে তৈরি তার ওষুধ দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করে। মানুষের দুঃখ লাঘবই ছিল তার জীবনের মূল সাধনা।
১৯৭১-এর সেই কালরাত্রিতে তার শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও, তার আদর্শ, কর্ম এবং মানবসেবার দৃষ্টান্ত আজও জীবন্ত। তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন—
জ্ঞান যখন মানবতার সেবায় নিয়োজিত হয়, তখনই তা সত্যিকার অর্থে মহৎ হয়ে ওঠে।
তার পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি