খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনন্য স্থাপত্য বিস্ময়—জাতীয় সংসদ ভবন। আর এই মহিমান্বিত স্থাপত্যের রূপকার বিশ্ববরেণ্য স্থপতি লুই আই কান।
পূর্ণ নাম লুই ইসাডোর কান। জন্ম ১৯০১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার অন্তর্গত এস্তোনিয়ায়। শৈশবেই তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। দরিদ্র অভিবাসী পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি প্রতিভা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার শক্তিতে হয়ে ওঠেন বিশ্বস্থাপত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
১৯২৪ সালে তিনি University of Pennsylvania থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই ইউরোপ ভ্রমণ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। প্রাচীন রোমান ও গ্রিক স্থাপত্য, আলো-ছায়ার নান্দনিক ব্যবহার এবং স্থাপত্যের মৌলিক রূপ তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
১৯৩২ সালে সহকর্মী Dominique Berninger-এর সঙ্গে গড়ে তোলেন Architectural Research Group। ধীরে ধীরে তিনি স্থাপত্যকে কেবল ভবন নির্মাণের প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বরং মানবিক অনুভূতি, নীরবতা ও আলোর ভাষায় প্রকাশিত এক শিল্পরূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
লুই কানের স্থাপত্যের মূল দর্শন ছিল—
“A building is not just a space to occupy; it is a place where light meets silence.”
অর্থাৎ, স্থাপনা শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি আলো, নীরবতা ও মানুষের অস্তিত্বের এক গভীর সংলাপ।
ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন তাঁর সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। জ্যামিতিক আকার, খোলা প্রাঙ্গণ, জলাধার এবং প্রাকৃতিক আলোর অপূর্ব ব্যবহার এই স্থাপনাকে বিশ্বমানের এক অনন্য শিল্পকর্মে পরিণত করেছে। এখানে শক্তি ও সৌন্দর্য, সরলতা ও গভীরতা—সব একসূত্রে গাঁথা।
কর্মজীবনে তিনি লাভ করেন বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননা, যার মধ্যে অন্যতম American Institute of Architects–এর স্বর্ণপদক। তাঁর নকশাকৃত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে Salk Institute এবং Kimbell Art Museum।
১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ নিউইয়র্কে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর স্থাপত্যচিন্তা আজও বিশ্বজুড়ে স্থপতিদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
লুই আই কান কেবল একজন স্থপতি নন—তিনি ছিলেন আলোর ভাষ্যকার, নীরবতার কবি, আর ইট-পাথরের ভেতর মানবিক আত্মার স্থপতি। তাঁর সৃষ্টি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের আকাশে, সব সময়ে।