খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় নারী ছিলেন ভাষাসৈনিক নাফিসা কবীর। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন নির্ভীক, সচেতন ও সক্রিয় প্রবাসী কর্মী। দেশসীমা পেরিয়ে তিনি বাংলা ভাষার অধিকারের জন্য সোচ্চার ছিলেন, আপসহীনভাবে প্রতিটি প্রয়াসে তার অবস্থান ছিল দৃঢ় ও অটল।
নাফিসা কবীরের পরিবার বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় বহন করে। তিনি ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার এবং কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের সহোদরা বোন। এই পরিবার দেশের ইতিহাসে আলোকিত নাম হিসেবে চিরস্মরণীয়।
তার পিতা মাওলানা হাবিবউল্লাহ কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক ছিলেন এবং পরে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাতা সুফিয়া খাতুন ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সংস্কৃতিবান। পরিবারের পৈতৃক নিবাস ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মজুপুর গ্রাম, যা দেশের ইতিহাসে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জন্মভূমি।
নাফিসা কবীর পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার ব্যক্তিজীবন শিক্ষিত, প্রগতিশীল এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর স্বামী ডা. এম. এ. কবীর। দম্পতির সংসারে চার কন্যা ও এক পুত্র—যাদের তিনি শিক্ষা, শিষ্টাচার ও মানবিক চেতনায় মানুষ করেছিলেন।
নিম্নে নাফিসা কবীরের পরিবারের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
| নাম | সম্পর্ক | অবস্থান/বৃত্তি |
|---|---|---|
| শহীদুল্লাহ কায়সার | ভাই | প্রয়াত, শহীদ বুদ্ধিজীবী |
| জহির রায়হান | ভাই | প্রয়াত, চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক |
| জাকারিয়া হাবিব | ভাই | প্রয়াত, চলচ্চিত্র পরিচালক |
| ওবায়দুল্লাহ মিয়াজী চৌধুরী | ভাই | যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস |
| সাইফুল্লাহ চৌধুরী | ভাই | ঢাকায় অবস্থান |
| শাহেনশাহ বেগম | একমাত্র বোন | ঢাকায় অবস্থান |
| ডা. এম. এ. কবীর | স্বামী | চিকিৎসক |
দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
নাফিসা কবীর ছিলেন ভাষা আন্দোলনের চেতনা, মুক্তবুদ্ধির অনুশীলন এবং গৌরবময় পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ভাষাসৈনিক নাফিসা কবীরের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিটি বাঙালির গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।