খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা বা সেখানে নৌ চলাচল সীমিত করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্র যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি—যা এখন কৌশলগতভাবে বড় ভুল হিসেবে সামনে আসছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। তাঁর মতে, ইরান চাইলে সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে পারে অথবা নির্দিষ্ট জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কার্যত আংশিক অবরোধ তৈরি করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বক্তব্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে যে মন্তব্য এসেছে, তা ইরানের জন্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক অজুহাত তৈরি করেছে। এর ফলে ইরান চাইলে প্রণালী ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেতে পারে।
কামরাভার মতে, এই হুমকি নতুন নয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর থেকেই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এমন কৌশলগত চাপের আলোচনা চলে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা এই ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেননি, যা এখন বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে ফিরে আসছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে বলে জানা যায়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তও রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অবস্থান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক তেলবাজার ও পরিবহন ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের যেকোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ইরানের সক্ষমতা | প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | আগে থেকে ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করার অভিযোগ |
| সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট | আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান |
| সম্ভাব্য প্রভাব | বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা |
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জটিল সংকেত। ইরানের অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ—দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।