খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যগুলো নিয়ে অভিযানে নেমেছিল, তার সিংহভাগই অর্জিত হয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট মনে করছেন। বিশেষ করে ইরানের নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ নিষ্ক্রিয় করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে পেন্টাগন সাফল্য দাবি করেছে। এখন সামরিক শক্তির বদলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য।
ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানের পেছনে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা কাজ করছে। তিনি মনে করছেন, এই মুহূর্তে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালালে যুদ্ধটি তাঁর নির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা অতিক্রম করতে পারে। রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প চান না যে মার্কিন জনগণ কোনো অন্তহীন যুদ্ধের বোঝার মুখোমুখি হোক। তাই তিনি সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত। এই জলপথটি বন্ধ থাকা বা ইরানি নিয়ন্ত্রণে থাকা বৈশ্বিক তেলের বাজারের জন্য একটি অশনিসংকেত। নিচের সারণিতে হরমুজ প্রণালি ও বর্তমান সংকটের কিছু মূল তথ্য তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘আউটসোর্সিং’ বা মিত্রদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যদি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল ভার ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর ওপর ন্যস্ত করতে পারে। ট্রাম্পের ধারণা, মিত্ররা যদি এই অভিযানের নেতৃত্বে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য পুরোপুরি এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছুটান নতুন নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দিতে পারে। হোয়াইট হাউসের টেবিলে এখনো বেশ কিছু কঠোর সামরিক বিকল্প জমা থাকলেও, প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে উত্তেজনা প্রশমন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তেহরানের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা জলপথটি পুরোপুরি নিরাপদ হওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনী তাদের অভিযানের গতি কমিয়ে আনলে, তা ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাবকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ট্রাম্পের এই ‘দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তির’ কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।