খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের আতঙ্কে ৯৫টিরও বেশি দেশে পেট্রোলের দাম বাড়েছে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গাড়িচালক এবং শিল্পখাতে দ্রুত অনুভূত হচ্ছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ২.৯৪ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫৮ ডলারে, যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্বভাবে পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করায় কিছু রাজ্যে প্রতি গ্যালন দাম ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে প্রতি গ্যালন পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৫ ডলারে।
গ্লোবাল পেট্রল প্রাইস নামের প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলার পর অন্তত ৮৫টি দেশে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়ায় ৯৫-অকটেনের পেট্রলের দাম ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিয়েতনামে দাম বৃদ্ধি ৫০%, নাইজেরিয়ায় ৩৫%, এবং লাওসে ৩৩%।
| দেশ | দাম বৃদ্ধি (%) | পূর্বের দাম (USD প্রতি লিটার) | বর্তমান দাম (USD প্রতি লিটার) |
|---|---|---|---|
| কম্বোডিয়া | ৬৮ | ১.১১ | ১.৩২ |
| ভিয়েতনাম | ৫০ | ০.৯৮ | ১.৪৭ |
| নাইজেরিয়া | ৩৫ | ১.২০ | ১.৬২ |
| লাওস | ৩৩ | ১.০০ | ১.৩৩ |
দাম বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, লাওস, কানাডা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং সিঙ্গাপুর। উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের নাম ৯৫ দেশের তালিকায় না থাকলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব পূর্ব এশিয়ার তুলনায় বেশি।
কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আর্থিক সুরক্ষা ভাণ্ডার তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুতও কম।
বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানও একই সমস্যার মুখোমুখি থাকায় সরকারি দপ্তরগুলো সপ্তাহে চার দিন খোলা রাখছে এবং ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে অফিস করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই ধরনের ব্যবস্থা যুদ্ধ বা সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারা চলতে থাকলে আগামী মাসে আরও অনেক দেশে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি ভোক্তা এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।