খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বজুড়ে যখন মানুষ ভালোবাসা দিবস উদযাপনে মগ্ন, ঠিক তখনই ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে ঘটে গেছে এক রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্বামী আনশুল ধাওয়ান তাঁর ব্যাংক কর্মকর্তা স্ত্রী মহককে গলা কেটে হত্যা করে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডকে নিছক ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, পুলিশের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তায় মাত্র ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে উন্মোচিত হয়েছে ঘাতক স্বামীর আসল চেহারা।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সারাদিন আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়েছিলেন আনশুল ও মহক। সন্ধ্যায় তাঁরা বিলাসবহুল নৈশভোজেও অংশ নেন। কিন্তু উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই রাত ১১টার দিকে গুরুগ্রামে কর্মরত আনশুল পুলিশকে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে দাবি করেন যে, তাঁদের বাহাদুরগড়ের বাড়িতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা ঢুকে লুটপাটের চেষ্টা করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বাধা দেওয়ায় ডাকাতরা তাঁর স্ত্রীর গলা কেটে দিয়ে পালিয়েছে।
ঝাজ্জর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় মহকের মরদেহ উদ্ধার করে। শুরুতে পরিস্থিতি দেখে সাধারণ ডাকাতি মনে হলেও, তদন্ত কর্মকর্তারা আনশুলের জবানবন্দিতে বেশ কিছু গুরুতর অসংগতি খুঁজে পান। হামলাকারীদের কোনো বর্ণনা বা ঘটনার কোনো যৌক্তিক পারম্পর্য দিতে পারছিলেন না আনশুল।
তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ভিকটিম | মহক (ব্যাংক কর্মকর্তা, এইচডিএফসি ব্যাংক)। |
| অভিযুক্ত ঘাতক | আনশুল ধাওয়ান (স্বামী, পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট)। |
| হত্যাকাণ্ডের সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত। |
| হত্যাকাণ্ডের ধরন | ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা। |
| প্রাথমিক দাবি | ডাকাতি ও লুটপাট। |
| আসল মোটিভ | স্ত্রীর চরিত্রের ওপর দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও দাম্পত্য কলহ। |
পুলিশ আনশুলকে হেফাজতে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি ভেঙে পড়েন। তদন্ত কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেন যে, ঘর থেকে কোনো মূল্যবান অলঙ্কার বা নগদ অর্থ খোয়া যায়নি। এমনকি বাড়িতে প্রবেশের দরজায় কোনো জোরাজুরির চিহ্নও ছিল না। পুলিশি জেরার মুখে আনশুল স্বীকার করেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে পরকীয়া সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, সন্দেহের এই বিষবাষ্প থেকেই আনশুল পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ভালোবাসা দিবসের উৎসবকে তিনি একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন যাতে কেউ তাঁকে সন্দেহ না করে। তিনি ভেবেছিলেন, সারাদিন স্ত্রীর সঙ্গে হাসিখুশি সময় কাটানোর পর রাতে ডাকাতির গল্প সাজালে পুলিশ সহজেই তা বিশ্বাস করবে।
শিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ পেশাজীবী এক দম্পতির এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয় জনপদে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ অভিযুক্ত আনশুলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, পারিবারিক কলহ ও সন্দেহ একটি সাজানো সংসারকে কতটা ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। বর্তমানে আনশুল ধাওয়ান শ্রীঘরে রয়েছেন এবং মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।