খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
বর্তমানের ফুটবলবিশ্বে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর যুগ অনেকাংশে শেষের পথে। নতুন প্রজন্মের তারকা হিসেবে কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হলান্ড বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করেছেন। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড ‘গোলমেশিন’ হিসেবে পরিচিত। মাঠে তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে এক ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। তবে কমই জানেন ফুটবলপ্রেমীরা, হলান্ডের ক্যারিয়ারের প্রথম স্বপ্নটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।
হলান্ডের বাবা আলফ-ইঞ্জে হলান্ড তার পুত্রের বিভিন্ন খেলার প্রতিভা খুঁজে দেখতেন। ছোটবেলায় আর্লিং শুধু ফুটবলের জন্য নয়, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড, হ্যান্ডবল, এমনকি গলফেও সাফল্যের সম্ভাবনা রাখতেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি লং জাম্পে নরওয়েজিয়ার বয়সভিত্তিক বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছিলেন। ১.৬৩ মিটার লাফ দিয়ে ছোট্ট হলান্ড যে খেলার মঞ্চে সবাইকে অবাক করেছিলেন, তা এক প্রকারের প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয় যে তার শারীরিক গঠন এবং অ্যাথলেটিক দক্ষতা অসাধারণ।
আলফ-ইঞ্জে হলান্ড এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি চাইতেন ছেলে বহুমুখী হোক। ‘বহুমুখিতা গুরুত্বপূর্ণ,’ তিনি বলেন। ‘শরীরের বিভিন্ন দিকের বিকাশ ঘটে এবং যা কিছু শেখা যায় তা অন্য খেলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’
হলান্ডের বাবার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল আর্লিংকে পেশাদার গলফ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা। আর্লিং নিজেও ‘দ্যা রেস্ট ইজ ফুটবল’ পডকাস্টে জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি প্রতি সপ্তাহে গলফ খেলতেন। যদিও পেশাদার ফুটবলেই তিনি এখন শীর্ষে পৌঁছেছেন, সেই সময়ের গলফ অভিজ্ঞতা হয়তো তাঁর ফোকাস এবং মানসিক দৃঢ়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী এই তারকা প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম সময়ে গোলের সেঞ্চুরি, ১০, ২৫ ও ৫০ গোলের রেকর্ড ভাঙেছেন। মৌসুমের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৫ ম্যাচে ২৩ গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বাবা হয়তো আর গলফের জন্য আফসোস করছেন না; কারণ ফুটবল এখন তাঁর জীবনের মূল মঞ্চ।