খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কূটনৈতিক দুনিয়ায় প্রায়ই দুটি শব্দ শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত বা এম্বাসেডর এবং হাইকমিশনার। অনেকের কাছেই এ দুটি শব্দ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে বাস্তবে এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক পার্থক্য।
‘হাইকমিশনার’ পদবির প্রচলন মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় থেকে। একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশগুলো স্বাধীন হওয়ার পর তারা একটি বিশেষ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে, যাকে বলা হয় কমনওয়েলথ অব নেশনস। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রদূতের বদলে হাইকমিশনার নিয়োগ দেওয়ার প্রথা চালু হয়। অন্যদিকে, কমনওয়েলথের বাইরের দেশগুলোর জন্য কূটনীতিকরা রাষ্ট্রদূত হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।
তবে দায়িত্বের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের কাজ প্রায় একই। মূল পার্থক্য শুধু নামের মধ্যে—কোন দেশে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন তার ওপর নির্ভর করে তাঁকে হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূত বলা হয়।
যেমন: বাংলাদেশের লন্ডন মিশনের প্রধান হচ্ছেন হাইকমিশনার, কারণ যুক্তরাজ্য কমনওয়েলথের সদস্য। আবার বাংলাদেশের ওয়াশিংটন মিশনের প্রধান হচ্ছেন রাষ্ট্রদূত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র কমনওয়েলথভুক্ত নয়।
অনেকে মনে করেন, হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের আলাদা নামকরণ কেবল ঐতিহাসিক কারণে টিকে আছে। কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের পারিবারিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই এই বিভাজন বজায় রাখা হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের মধ্যে কার্যত কোনো বড় পার্থক্য নেই। উভয়েই নিজ নিজ দেশে দেশের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রতিনিধি। তবে নামের এই ভিন্নতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় উপনিবেশিক ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক বিশেষ অধ্যায়ের কথা।
খবরওয়ালা/এমএজেড