আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হাইতিতে একাধিক গ্যাংয়ের হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে সংকটে জর্জরিত ক্যারিবিয়ান দেশটিতে এটি সর্বশেষ ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা।
স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে সোমবার পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স নেটওয়ার্ক (আরএনডিডিএইচ) এএফপিকে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, গত ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহত অনেক মানুষের মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো এখনো ঝোপের মধ্যে পড়ে আছে এবং কুকুর সেগুলো খাচ্ছে।”
পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হাইতিতে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। দেশটির একটি বড় অংশ এবং রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের অধিকাংশ এলাকা সশস্ত্র দলগুলোর দখলে রয়েছে।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে গ্যাংগুলোর একটি জোট আক্রমণ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি পদত্যাগ করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
হাইতির পুলিশকে সহায়তার জন্য কেনিয়ার নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হলেও সহিংসতা দমন করা সম্ভব হয়নি।
আরএনডিডিএইচ জানিয়েছে, ‘ভিভ আনসানম’ নামের গ্যাং জোট কাছের ল্যাবোডেরি শহরে “বেসামরিক জনগণের ওপর অত্যন্ত নিষ্ঠুর গণহত্যা চালিয়েছে।” মার্চ ২০২৪ থেকে গ্যাংটি ক্যাবারেট শহর দখল করে রেখেছে। শহরটি পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
সংস্থাটি আরও জানায়, “তারা ৫০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং অনেক বাড়িতে আগুন দিয়েছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “বেঁচে থাকা কিছু মানুষ পাশের এলাকায় পালাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যরা আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচতে নৌকা করে সমুদ্রে পালিয়ে যায়।”
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মাসে সতর্ক করে বলেছেন যে হাইতিতে “রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ভেঙে পড়ছে।” তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেন, হাইতির রাজধানীর বাইরেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে এবং সেখানকার ৯০ শতাংশ অঞ্চলের ওপর গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন