খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে পৌষ ১৪৩২ | ৩০ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পৌষের মাঝামাঝিতে এসে হিমালয়ঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও যেন পরিণত হয়েছে শীতের রাজ্যে। উত্তরের হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার দাপটে কার্যত থমকে গেছে জনজীবন। গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখেনি এ জেলা। দিনের আলোতেও চারপাশ ঢেকে থাকছে কুয়াশার চাদরে, বিকেলের আগেই নেমে আসছে সন্ধ্যার মতো আঁধার।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার মনে হলেও ভোর থেকেই ঝরেছে ঝিরঝিরে শিশির-বৃষ্টি। ফলে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ঠাকুরগাঁও শহর ও গ্রামাঞ্চল—সবখানেই এখন কেবল শীত আর শীতের গল্প। উত্তুরে বাতাস যেন শরীরে হুল ফোটাচ্ছে; গরম কাপড় পরেও কাঁপুনি থামছে না।
শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠে কৃষিকাজ ও খামারের কার্যক্রম প্রায় স্থবির। অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কমে গেছে; রাস্তাঘাটেও লোক চলাচল নেমে এসেছে ন্যূনতম পর্যায়ে। শীত থেকে বাঁচতে ভোর ও সন্ধ্যায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
প্রচণ্ড ঠান্ডার প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। ঠাকুরগাঁও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
শুধু মানুষ নয়, শীতের প্রকোপে বিপর্যস্ত প্রাণিকুলও। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মধ্যে শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। অনেক খামারি পশুপাখি রক্ষায় বাড়তি যত্ন নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | ১৩.৭° সেলসিয়াস |
| সূর্যের অনুপস্থিতি | টানা ৫ দিন |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত | দিনমজুর, শিশু ও বয়স্ক |
| স্বাস্থ্যঝুঁকি | নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট |
| কৃষি ও খামার | কাজ প্রায় স্থবির |
সীমান্তবর্তী এই জনপদে এখন সবার একটাই আকাঙ্ক্ষা—একটু রোদের দেখা পাওয়া। তবে কুয়াশার ঘন পর্দার আড়ালে সূর্য কবে উঁকি দেবে, সে উত্তর আপাতত মেঘলা আকাশের কাছেই অজানা রয়ে গেছে।