খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় নতুন ও বিস্ময়কর তথ্য সামনে আনছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সর্বশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হত্যাচেষ্টার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের সঙ্গে একটি বড় ইসলামি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে ঘটনাটিকে কেবল ব্যক্তিগত বা তাৎক্ষণিক হামলা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গুলির ঘটনার পরপরই পুলিশ ফয়সাল করিমের মালিকানাধীন আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর অফিস থেকে একাধিক কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র জব্দ করে। পাশাপাশি তার পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি ফয়সালের গতিবিধি ও পলাতক হওয়ার পরিকল্পনায় সহযোগিতা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জব্দ করা ডিভাইস থেকে যোগাযোগের তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুলির ঘটনার পর ফয়সাল প্রথমে মোটরসাইকেলে সাভারে যান, পরে ধামরাই হয়ে অন্য একটি যানবাহনে শেরপুরের নালিতাবাড়ি এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। ফয়সাল সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়েছেন নাকি এখনও বাংলাদেশের ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন—তা নিশ্চিত হতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে নালিতাবাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে সিববিয়ন ও সঞ্জয় নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ফয়সালের পালিয়ে যাওয়ার পেছনে এই চক্রটি ভূমিকা রেখেছে।
ফয়সাল করিম মাসুদের রাজনৈতিক অতীতও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদে ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য গঠিত সমন্বয়ক কমিটিতেও তার ভূমিকা ছিল।
একই সঙ্গে ফয়সালের সঙ্গে ওসমান হাদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে তোলা সাম্প্রতিক ছবিতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা মনে করছেন, ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে ওসমান হাদির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গুলি চালানো ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যা মামলার সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।