খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েল সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলো এমন ছিল যা বাস্তবিকভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে পারত এবং এর মাধ্যমে সামরিক সংঘাতও প্রতিহত করা সম্ভব হতো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পাওয়েল জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবনা আসে, তা তিনি ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আলোচনায় প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইরানের একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।
| তারিখ | অনুষ্ঠান | মূল অংশগ্রহণকারী | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শেষ সপ্তাহ | জেনেভা আলোচনার প্রথম অধিবেশন | জনাথন পাওয়েল, জ্যারেড কুশনার, স্টিভ উইটকফ, রাফায়েল গ্রসিক | পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে অগ্রগতি |
| মার্চ ২, ২০২৫ (নির্ধারিত পরবর্তী ধাপ) | ভিয়েনায় কারিগরি আলোচনা | নির্ধারিত হয়নি (হামলার কারণে বাতিল) | চূড়ান্ত চুক্তি স্থাপন |
জেনেভা আলোচনায় পাওয়েলের উপস্থিতি আলোচনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তিনি নিজের বিশেষজ্ঞ দলসহ অংশগ্রহণ করেছিলেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি কুশনার ও উইটকফ কারিগরি টিম আনেননি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) মহাপরিচালক গ্রসিককেই তাদের কারিগরি সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে ৪৪০ কেজি পর্যন্ত সীমিত রাখবে এবং আইএইএ তত্ত্বাবধানে কমাবে।
ভবিষ্যতে কোনো নতুন উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করা হবে না।
ইরান ৩–৫ বছরের জন্য অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখে।
বিনিময়ে প্রায় ৮০% অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, এতে কাতারে আটকে থাকা তহবিলও অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেত।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বড় অগ্রগতি ছিল। তবে, আলোচনার দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, যার ফলে ২ মার্চ ভিয়েনায় নির্ধারিত আলোচনাটি আর হয়নি।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ইউরোপে কোনো তৎকালীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি বা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রমাণ মেলেনি। তিনি বলেন, “কূটনৈতিক পথ তখনও কার্যকর ছিল এবং আমরা চাইছিলাম এটি অব্যাহত থাকুক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক হামলার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানই প্রধান কারণে ভূমিকা রেখেছিল।”
পাওয়েলের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাজ্যের জড়িত থাকার ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পথ তখনও বন্ধ হয়নি। তবে হঠাৎ হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ করেছে।