খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
খুলনার রূপসা উপজেলায় পারিবারিক পরিবেশে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় চরম উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
নিহত নারী মিম্মি বেগম (৪৪) স্থানীয় বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে নাদিম ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকাকালে কোনো এক পর্যায়ে নাদিম তার মায়ের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। আকস্মিক এই হামলায় মিম্মি বেগম গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাদিম ইসলামকে আটক করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা প্রথমে অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে অনীহা প্রকাশ করে এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এতে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কাছাকাছি একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর অভিযুক্ত নাদিম ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, লাঠির আঘাতেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক কলহ, মানসিক অস্থিরতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, পরিবারটিতে পূর্ব থেকেই কিছু অশান্তি বিরাজ করছিল, তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউ কল্পনাও করেনি।
নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | রূপসা উপজেলা, খুলনা |
| গ্রাম | খান মোহাম্মাদপুর |
| সময় | সকাল সাড়ে ৮টা, ১০ এপ্রিল |
| নিহত | মিম্মি বেগম (৪৪) |
| অভিযুক্ত | ছেলে নাদিম ইসলাম |
| ঘটনার ধরন | লাঠির আঘাতে হত্যা |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।