সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, তিনি এখনো হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ৮০০ টাকা পাওনা রয়েছেন।
ভিডিওতে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনি গাড়ি নিয়ে বসতেন এবং সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। তার দাবি অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার কাছে প্রায়ই আসতেন এবং তাকে চা খাওয়ানোর অনুরোধ করতেন। তিনি বলেন, “আমি এখনো হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে টাকা পাব, ৮০০ টাকা। ভার্সিটিতে গাড়ি নিয়ে বসতাম আমি। এসেই বলতো, ভাই চা খাওয়ান, মামা চা খাওয়ান, খাওয়াইতাম।”
একই ভিডিওতে তিনি আরও কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “সেই চোরের ঘরে চোর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়।”
ভিডিওর পরবর্তী অংশে তিনি আরও বলেন, “ওই চোরের ঘরে চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। চোর তো সংসদেই বসে আছে। পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করে ফেলছে।”
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ব্যক্তিটির এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত ৮০০ টাকা পাওনার দাবি কিংবা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর কোনো বক্তব্যও ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়নি।
নিচে ভিডিওতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর সংক্ষিপ্তসার দেওয়া হলো—
বিষয়
ভিডিওতে ব্যক্তিটির দাবি
পাওনা টাকা
হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে ৮০০ টাকা পাওনা রয়েছে
পরিচয়ের প্রেক্ষাপট
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাড়ি নিয়ে বসতেন
আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গ
চা খাওয়ানোর জন্য একাধিকবার অর্থ ব্যয় করেছেন বলে দাবি
অতিরিক্ত অভিযোগ
৫ আগস্টের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনামূলক মন্তব্য
রাজনৈতিক মন্তব্য
সংসদ ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য
ভিডিওটিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিটি মূলত দুই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। প্রথমত, তার দাবি অনুযায়ী হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে ৮০০ টাকা পাওনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তিনি কিছু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। তবে ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্যের পক্ষে কোনো নথি, প্রমাণ বা স্বাধীন সূত্রের তথ্য দেখানো হয়নি। ফলে ভিডিওতে উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে ভিডিওতে কোনো যাচাইকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।