খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৯ এএম
তিন ভাইয়ের মধ্যে মুজাহিদ ছিলেন মেজো। পূর্বে তার নাম ছিল হিরণ চন্দ্র শীল। তিনি চর লরেন্স গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ চন্দ্র শীলের পুত্র। উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) শেষ করার পর তিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওমানে অবস্থান করেন। সেখানে ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এই কারণে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ভিসা বাতিল করে তাকে দেশে ফেরত পাঠান। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ওমান থেকে দেশে ফিরে এলে তার বাবা-মা তাকে বাড়ি থেকে বহিষ্কার করেন। এমনকি তাকে কোনো প্রকার সম্পত্তিও দেওয়া হয়নি।
বিদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি হতাশায় নিমজ্জিত হন। একটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে একটি চাকরিতে যোগ দেন। এরই মাঝে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সামান্য বেতনে সংসার নির্বাহ করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। ঠিক সেই সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দক্ষতা ভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি একটি নাপিতের দোকানের জন্য সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তার আবেদনটি গৃহীত হয়। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন তাকে ছয়টি ধাপে মোট ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সেই অর্থ ব্যবহার করে মুজাহিদ একটি সেলুন দোকান স্থাপন করে তার হতাশাগ্রস্ত জীবন থেকে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন।
বর্তমানে কোরআনের হাফেজা স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস এবং দুই কন্যা মাইমুনা আক্তার ও সিদরাতুল মুনাহাকে নিয়ে মুজাহিদের সংসার। তারা লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরলরেন্স বাজার সংলগ্ন তুলাতলি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তার পৈতৃক বাসস্থানও একই অঞ্চলে ছিল।
মুজাহিদ বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত তিনি ইসলাম ধর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করেছেন। রাশেদ নামের একজন শিক্ষকের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রন্থ পড়ে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারেন। তিনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের বইও পাঠ করেছেন। পরে তিনি উপলব্ধি করেন যে ইসলাম ধর্মই একমাত্র সঠিক দ্বীনের পথ। তখনই তিনি ইসলাম ধর্মকে বরণ করে নেন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, চার মাস পূর্বে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন তাকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া, হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়ায় বাজার পরিচালনা কমিটিসহ সকলে মিলে উপজেলার চর লরেন্স বাজারে তাকে দোকানটি এনে দিয়েছেন। এজন্য তাকে দোকান ভাড়া দিতে হয় না। দোকানের অন্যান্য যাবতীয় খরচ তিনি নিজেই বহন করেন। প্রতি মাসে তার আয় প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১০-১৫ হাজার টাকা তার সঞ্চয় হয়। আলহামদুলিল্লাহ (আল্লাহর প্রশংসা) এখন তিনি সুখে আছেন।
তিনি বলেন, তার দোকানের বিশেষত্ব হলো তিনি ক্লিন সেভ করেন না, বরং তিনি মানুষকে দাড়ি রাখতে উৎসাহিত করেন। যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী, তাদের তিনি সব সময় অনুপ্রেরণা দেন। তিনি এক মুষ্টি পরিমাণ পর্যন্ত দাড়ি রেখে দেন। তিনি সবাইকে দাড়ি রাখার এবং ক্লিন সেভ না করার পরামর্শ দেন।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কমলনগর উপজেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম বলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা প্রকল্পের আওতায়ই মুজাহিদকে সেলুন দোকানটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। শুধু নওমুসলিম বা মুসলিম নয়, অন্য ধর্মের মানুষকেও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সহযোগিতা করে আসছে।
সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার যাচাইকৃত ফেসবুক পাতায় নওমুসলিম মুজাহিদকে নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন। এর একটি অংশে তিনি লিখেছেন, মুজাহিদ তার সেলুনে দাড়ি ছাঁটেন না, ক্লিন সেভও করেন না। তবুও সেলুনের এই আকর্ষণীয় উপার্জন প্রমাণ করে— কেউ গুনাহ (পাপ) থেকে বাঁচতে চাইলে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য