খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
ক্যালেন্ডার ৮০ বার বদলে গেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত আজও পৃথিবীকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমায় যে বিধ্বংসী পারমাণবিক বোমা হামলা হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিলেন জে. রবার্ট ওপেনহাইমার। তাঁর জীবন ও এই ভয়ংকর আবিষ্কার নিয়ে নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান ২০২৩ সালে তৈরি করেন চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’। ছবিটি অস্কার মঞ্চে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতাসহ মোট সাতটি পুরস্কার জিতে বাজিমাত করে।
ছবিটির পেছনে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। যেমন, এতে পারমাণবিক বোমার যে বিস্ফোরণ দেখানো হয়েছে, তা কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে তৈরি করা হয়নি। বরং নোলান বাস্তবেই একটি ছোট আকারের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করে অস্কার জিতেছেন কিলিয়ান মারফি। মজার বিষয় হলো, তাঁকে এই ভূমিকার জন্য কোনো অডিশন দিতে হয়নি। এর আগে নোলানের পাঁচটি ছবিতে কাজ করার কারণে তাঁর অভিনয় দক্ষতা সম্পর্কে নির্মাতা সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন। মারফি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “খুব ভাগ্যবান হলেই জীবনে এমন দু-একটি ফোনকল আসে, সেই মুহূর্ত আমি কখনো ভুলতে পারব না।”
এই ছবিটির জন্য একঝাঁক বিজ্ঞানী, নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলী যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে একসঙ্গে ছিলেন। শুটিং শেষ হওয়ার পরেই সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। ছবিটির চিত্রনাট্যেও ভিন্নতা ছিল। নোলান এটি প্রথম পুরুষে (ওপেনহাইমারের বয়ানে) লিখেছিলেন, যার ফলে প্রতিটি দৃশ্য দর্শকের কাছে আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
‘ওপেনহাইমার’-এর বেশিরভাগ দৃশ্য অত্যাধুনিক আইম্যাক্স ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। ছবিতে কিছু দৃশ্য রঙিন এবং কিছু সাদাকালো। সাদাকালো দৃশ্যের জন্য উপযুক্ত আইম্যাক্স ক্যামেরা না থাকায় নোলান কম্পানি থেকে বিশেষ একটি ক্যামেরা তৈরি করিয়ে নেন, যা দিয়ে সাদাকালো অংশের চিত্রায়ণ সম্ভব হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন