খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সরকার পতনের ১০ দিন পর গোপনে লুকিয়ে থাকার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। প্রকাশ্যে এসেই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
তার অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ নয়, বরং ‘অনুপ্রবেশকারীরা’। তিনি বলেন, পুলিশের কাছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নেই, অথচ নিহতদের গুলি করা হয়েছে ওই অস্ত্র দিয়েই।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বেকারত্বের প্রতিবাদে দেশজুড়ে তীব্র হয়ে ওঠে জেন-জি বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ১৯ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন ওলি। সহিংসতায় দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় এবং ওলি ও অন্যান্য মন্ত্রীদের গোপন স্থানে সরিয়ে নেয়। পরে রাজনৈতিক আলোচনার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেনা নিরাপত্তায় নয় দিন কাটিয়ে ওলি ব্যক্তিগত এক জায়গায় অবস্থান নেন। এরপর শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংবিধান দিবস উপলক্ষে প্রকাশ্যে এসে তিনি দাবি করেন, তার সরকার কখনোই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়নি। বরং আন্দোলনে ষড়যন্ত্র করে প্রবেশ করা ‘অনুপ্রবেশকারীরাই’ স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ওলির ভাষায়, ‘অনুপ্রবেশকারীরা আন্দোলনকে সহিংস করে তুলেছিল এবং এইভাবে আমাদের তরুণদের হত্যা করা হয়েছিল। আমার পদত্যাগের পর একাধিক সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যা স্পষ্ট করে যে বাইরের শক্তিও এই আন্দোলনে জড়িত ছিল।’
খবরওয়ালা/এন