খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১১ জন স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইরানের এক নারীর বিরুদ্ধে। মামলাটি এখন আদালতে গড়িয়েছে। অভিযুক্ত নারীর নাম কোলসুম আকবারি। সরকারি নথি অনুযায়ী তার বয়স ৫০-এর শেষ দিকে হলেও, ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি-তিনি আরও বেশি বয়সী।
আকবারির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ১১টি প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং ১টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে শুরু করে একে একে স্বামীদের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মূল লক্ষ্য ছিল উত্তরাধিকার ও বিবাহ-পরবর্তী আর্থিক পাওনা আদায় করা।
তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি বয়স্ক পুরুষদের টার্গেট করতেন, তাদের সঙ্গে বিয়ে করতেন এবং পরে ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ করতেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, কোলসুম খুব দক্ষতার সঙ্গে নিজের চিহ্ন লুকিয়ে রাখতেন। অধিকাংশ ভুক্তভোগী বয়স ও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে মনে করা হতো। এ সুযোগেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ এড়াতে পেরেছেন।
২০২৩ সালে আজিজুল্লাহ বাবায়ি নামের এক প্রবীণ ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মৃত্যুর অল্প আগে তিনি আকবারিকে বিয়ে করেছিলেন। তবে পরিবার তাকে তেমন চিনতো না।
আজিজুল্লাহ বাবায়ির ছেলে জানান, বাবার মৃত্যু আকস্মিক মনে হওয়ায় তারা ময়নাতদন্তের আবেদন করেন। যদিও তৎক্ষণাৎ কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এক পারিবারিক বন্ধুর বয়ান তদন্তে গতি আনে। সেই বন্ধু জানান, তার বাবাও এক সময় কোলসুম আকবারিকে বিয়ে করেছিলেন এবং একবার বিষ প্রয়োগের শিকার হন, তবে বেঁচে যান এবং পরে তালাক দেন।
এরপর তদন্তকারীরা পুরোনো ঘটনাগুলোর সঙ্গে মিল খুঁজে বের করতে থাকেন।
আকবারি বিভিন্ন সময়ে ডায়াবেটিস ও যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ, এমনকি শিল্পকারখানার অ্যালকোহল মিশিয়ে স্বামীদের ধীরে ধীরে দুর্বল করে তুলতেন। এক স্বামীর ক্ষেত্রে অজ্ঞান করার পর ভেজা তোয়ালে দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। অন্য এক স্বামী সুস্থ হয়ে উঠলেও, পরে পুনরায় ওষুধ দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর আকবারি উত্তরাধিকার, দেনমোহর বা সম্পদের দাবি তুলতেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম হত্যাটি ঘটেছিল ২০০১ সালে।
পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডগুলো স্বীকার করলেও আদালতে দোষ অস্বীকার করেন। পরে তদন্তে স্বীকারোক্তির সত্যতা মিললে তিনি দায় স্বীকার করেন, যদিও ঘটনার বিস্তারিত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এই মামলাটি আরও আলোচনায় আসে, যখন ভুক্তভোগীদের ৪৫ জনেরও বেশি আত্মীয় বাদী হিসেবে আদালতে যুক্ত হন। তাদের মধ্যে চারজন আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন। বাকিরা পরবর্তী শুনানিতে নিজেদের দাবি জানাবেন।
আকবারির আইনজীবী তার মানসিক অবস্থার মূল্যায়নের দাবি তুললেও, এক ভুক্তভোগীর আত্মীয় তা নাকচ করে বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি এত কৌশলে পরিকল্পনা করে এতগুলো পরিবারকে ধোকা দিতে পারে না।
শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারকরা এখন রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া, গাল্ফ নিউজ
খবরওয়ালা/টিএসএন