Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। গত কয়েক বছরের হিসাব অনুযায়ী, গত সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণ ১২ শতাংশের ওপরে উঠেছিল। ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১২.৫৬ শতাংশ। তবে সেই হিসাবেও ছিল কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি।
সরকারি পরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্ট থেকে খেলাপি ঋণ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। কারণ, আগের সরকারের সময় কিছু ঋণ আড়াল করা হয়েছিল যা প্রকৃত অবস্থার প্রকাশ করতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর ২০২৪ অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি পৌঁছে যায়, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।
যদিও খাতের সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনক, তবে ভালো খারাপের পার্থক্য স্পষ্ট। দেশের ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ১৭টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে। এই ব্যাংকগুলো মুনাফা, করপোরেট প্র্যাকটিস এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অগ্রগণ্য।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান জানিয়েছেন, ‘আমাদের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ শক্তিশালী। কোনো গ্রাহক সমস্যা হলে আমরা পাশে দাঁড়াই। এতে খেলাপি ঋণ কম রাখা সম্ভব হচ্ছে।’ একইসঙ্গে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘ঋণের ৩০ শতাংশ করপোরেট খাতে। বাকিটা ভোক্তা, সিএমএসএমই ও ক্রেডিট কার্ড। ঋণের বিকেন্দ্রীকরণ বেশি হওয়ায় খেলাপি ঋণ কম রয়েছে।’
এই ১৭ ব্যাংকের মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংক ৫.৪০ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক ৫.৫ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংক ৬.১১ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৬.৮৩ শতাংশ, কমিউনিটি ব্যাংক ৭.০৭ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৭.৬৭ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংক ৮.৩১ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ৮.৪৪ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক ৮.৯১ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ৮.৯৫ শতাংশ এবং যমুনা ব্যাংক ৯.০৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ ধারণ করছে। প্রাইম ব্যাংক আশা করছে, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমানোর কাজ চলছে। যদিও খাতের কিছু অংশ উদ্বেগজনক, তবে অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যেই ভালো অবস্থানে আছে।’