শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস গত অর্থবছরে ৬৯৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। গত জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত হিসাব চূড়ান্ত করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এই তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে শেয়ারধারীদের জন্য মোট ২১২ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদনের পর। সভায় জানানো হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্তিকের আর্থিক হিসাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেয়ারধারীরা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৪ টাকা ৭৫ পয়সা করে লভ্যাংশ পাবেন, যা মোট পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১২ কোটি টাকা।
লভ্যাংশ বণ্টনের কাঠামো অনুযায়ী উদ্যোক্তা পরিচালকরা পাবেন প্রায় ৬৪ কোটি টাকা, যাঁদের হাতে কোম্পানির ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, যাঁরা প্রায় ২৭ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেন, তারা পাবেন ৫৮ কোটি টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ২৫ শতাংশের কিছু বেশি হওয়ায় তারা পাবেন প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। আর সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।
কোম্পানির ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী ২ আগস্ট রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন যাঁদের কাছে শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হওয়ার পর লভ্যাংশ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বেক্সিমকো ফার্মার মালিকানায় থাকা শীর্ষ উদ্যোক্তা সালমান এফ রহমান ও তাঁর পরিবারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিচালনা পর্ষদে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় কোম্পানির নিয়মিত পর্ষদ সভা বন্ধ ছিল। এতে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় তথ্যবিহীন অবস্থায় ছিলেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তালিকাভুক্ত থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে কোম্পানিটির লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় লেনদেন বন্ধ থাকলে তালিকাচ্যুতির ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ঢাকার শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার পরও কোম্পানিটির শেয়ারের দামে পতন দেখা গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে দাঁড়ায় ১৪২ টাকায়। তবে একই সময়ে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে কোম্পানিটি, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হয়।