খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
কিডনি চিকিৎসার কথা আসলেই একজন চিকিৎসকের নাম সামনে আসে, যিনি বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করে থাকেন। তিনি হচ্ছেন সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। যিনি আগামীকাল শুক্রবার ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড করতে যাচ্ছেন।
আজ বিশ্ব কিডনি দিবসে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
এর কারণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনে দক্ষ জনবল তৈরি করা যায়নি, ওষুধের খরচ অনেক বেশি, আইনি জটিলতা, সরকারের অর্থ বরাদ্দ নেই এবং ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের দিকে মানুষের আগ্রহ তৈরি করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ধর্মীয়, আইনি ও সমাজের বিশিষ্টজনদের এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে সফলতা অন্যান্য দেশের কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও নিয়মিত ওষুধ না পেয়ে রোগীরা মারা যায়।
গবেষণায় দেখা যায়, কিডনি প্রতিস্থাপনের এক বছরে ৯৬ শতাংশ রোগী ভালো থাকছে, তিন বছরে পর সুস্থ থাকছে ৮৫ শতাংশ, পাঁচ বছরে ৭৫ এবং ১০ বছরে অর্ধেক রোগী মারা যায় বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে। অথচ তাদের কিডনি ঠিকমতো কাজ করছিল।
ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই কমে যায় যে একটা শিশুর মতো তাঁকে যত্ন করতে হয়। সামান্য ইনফেকশন হলেও ক্ষতি হয়।
জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে গড়ে সর্বোচ্চ ৩৬৫ জনের, যা প্রয়োজনের মাত্র ৩.৬৫ শতাংশ। প্রতিস্থাপন-পরবর্তী ওষুধ ও চিকিৎসা না পেয়ে অর্ধেকের মৃত্যু হয় পাঁচ বছরের আগে।
দেশের কিডনি প্রতিস্থাপন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা এখন প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ।
এর মধ্যে ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল। এ পর্যন্ত দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তিন হাজার ৫০০টির কিছু বেশি।
খবরওয়ালা/জেআর