সোমবার, ১ই জুন ২০২৬, ১৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ই জুন ২০২৬, ১৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩ চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে নিহত ৩

অর্থ-বাণিজ্য

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ড. ইউনূস সরকারের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ড. ইউনূস সরকারের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও হোয়াইট হাউসের এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা আসে। পরবর্তীতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (USTR) দপ্তরে প্রকাশিত এই চুক্তিতে শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা অপসারণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।

এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি নিয়ে ইতিমধ্যে দেশে ব্যাপক আলোচনা, বিতর্ক ও নানামুখী প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। চুক্তিটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের গভীর আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে জনস্বার্থে এবং সবার সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে আমরা এর একটি বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেছি।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এটি একটি অনানুষ্ঠানিক অনুবাদ মাত্র। চুক্তির কোনো ধারা বা শব্দের সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা, দাপ্তরিক কার্যক্রম অথবা গভীরতর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল ইংরেজি পাঠ (Original English Text) চূড়ান্ত ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

সহজ রেফারেন্সের জন্য মূল ইংরেজি টেক্সটটি এই নথির সাথে (নিচে) অ্যাটাচমেন্ট (সংযুক্তি) হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। অনুবাদের কোনো সীমাবদ্ধতা বা অসংগতির কারণে উদ্ভূত যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে যেকোনো দাপ্তরিক বা পেশাদার প্রয়োজনে মূল ইংরেজি চুক্তিটি অনুসরণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

পারস্পরিক বাণিজ্য বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি

প্রস্তাবনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ (ব্যক্তিগতভাবে “একটি পক্ষ” এবং সমষ্টিগতভাবে “উভয় পক্ষ”):

  • সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থার (resilient supply chains) প্রতি তাদের অভিন্ন অঙ্গীকারসহ অংশীদারিত্বমূলক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে;

  • তাদের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের স্বীকৃতি প্রদান করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তি’তে (TIFA) প্রতিফলিত হয়েছে;

  • শুল্ক এবং অশুল্ক বাধাসমূহ নিরসনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বা আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে; এবং

  • জাতীয় ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার প্রয়াসে,

নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে একমত হয়েছে:

ধারা ১: শুল্ক এবং কোটা

অনুচ্ছেদ ১.১: শুল্ক এবং কোটা

১. অ্যানেক্স ১-এর তফশিল ১-এ (Schedule 1 to Annex I) যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত পণ্যের (originating goods) ওপর সেই হার অনুযায়ী আমদানি শুল্ক¹ আরোপ করবে।

২. উভয় পক্ষ অন্য কোনো বিষয়ে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর কোনো প্রকার কোটা (পরিমাণগত সীমাবদ্ধতা) আরোপ করতে পারবে না।

৩. অ্যানেক্স ১-এর তফশিল ২-এ (Schedule 2 to Annex I) যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর একটি পারস্পরিক সমহারের (reciprocal) শুল্ক আরোপ করবে।

টিকা ১: আমদানি শুল্কের (Customs duty) মধ্যে যেকোনো ধরনের কাস্টমস ডিউটি (CD), সম্পূরক শুল্ক (SD), অথবা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (RD) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ধারা ২: অশুল্ক বাধা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ

অনুচ্ছেদ ২.১: আমদানি লাইসেন্সিং

বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ওপর এমনভাবে আমদানি লাইসেন্সিং² প্রয়োগ করবে না, যা উক্ত পণ্যের আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, তাদের প্রয়োগকৃত যেকোনো অ-স্বয়ংক্রিয় (non-automatic) আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কেবল মূল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে এবং তা স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন ও অযৌক্তিকভাবে কষ্টসাধ্য হবে না; এবং তা মার্কিন রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হ্রাস করবে না।

অনুচ্ছেদ ২.২: কারিগরি বিধিমালা, মানদণ্ড এবং সামঞ্জস্য নিরূপণ (Conformity Assessment)

১. বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত সেই সকল পণ্যকে কোনো অতিরিক্ত সামঞ্জস্য নিরূপণ ছাড়াই নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেবে, যা সংশ্লিষ্ট মার্কিন বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, মার্কিন কারিগরি বিধিমালা অথবা মার্কিন বা আন্তর্জাতিক সামঞ্জস্য নিরূপণ পদ্ধতি অনুসরণ করে—যদি সরকারি বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষাগার কর্তৃক এর সনদ প্রদান করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে:

  • (ক) বাংলাদেশ সামঞ্জস্য নিরূপণকারী মার্কিন সংস্থাগুলোকে নিজস্ব দেশের সংস্থাগুলোর তুলনায় কোনোভাবেই কম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে না (বৈষম্যহীন আচরণ করবে); এবং

  • (খ) মার্কিন রেগুলেটরি কাঠামোতে যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সামঞ্জস্য নিরূপণের প্রয়োজন হয় না, সেই সকল পণ্যের মার্কিন মানদণ্ড বা পদ্ধতি গ্রহণে বাংলাদেশ সহযোগিতা করবে।

২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, কারিগরি বিধিমালা, মানদণ্ড এবং সামঞ্জস্য নিরূপণ পদ্ধতিগুলো বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এগুলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কোনো ছদ্মবেশী বাধা হিসেবে কাজ করছে না। এছাড়া বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কারিগরি বাধাসমূহ—যা পারস্পরিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে এবং একই ধরণের বা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সামঞ্জস্য নিরূপণের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে—বাংলাদেশ তা অপসারণ করবে।

অনুচ্ছেদ ২.৩: কৃষি

১. অ্যানেক্স ১-এর তফশিল ১-এ যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ মার্কিন কৃষিপণ্যের জন্য বৈষম্যহীন অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা প্রদান করবে।

২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, তাদের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (SPS – স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত) পদক্ষেপগুলো বিজ্ঞান ও ঝুঁকিভিত্তিক হবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ছদ্মবেশী বাধা হিসেবে কাজ করবে না। এছাড়া অযৌক্তিক SPS বাধাগুলো যা পারস্পরিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে, বাংলাদেশ তা অপসারণ করবে।

টিকা ২: অধিকতর স্পষ্টতার জন্য, “আমদানি লাইসেন্সিং”, “স্বয়ংক্রিয় আমদানি লাইসেন্সিং” এবং “অ-স্বয়ংক্রিয় আমদানি লাইসেন্সিং” শব্দগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতি সংক্রান্ত চুক্তিতে প্রদত্ত অর্থের সমরূপ হবে।

৩. বাংলাদেশ কোনো তৃতীয় দেশের সাথে এমন কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় আবদ্ধ হবে না যা অবৈজ্ঞানিক, বৈষম্যমূলক বা কোনো বিশেষ পক্ষকে সুবিধা প্রদানকারী (preferential) কারিগরি মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করে; অথবা এমন কোনো তৃতীয় দেশের SPS (স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত) পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করে যা মার্কিন বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে অসংগতিপূর্ণ; অথবা অন্য কোনোভাবে উক্ত তৃতীয় দেশগুলোতে মার্কিন রপ্তানিকে অসুবিধায় ফেলে।

অনুচ্ছেদ ২.৪: ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical Indications – GI)

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালনসহ ভৌগোলিক নির্দেশকসমূহের সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে। যদি বাংলাদেশ এমন কোনো শব্দকে ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে সুরক্ষা বা স্বীকৃতি দেয় যা কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে চিহ্নিত করে, কিন্তু উক্ত পণ্যের গুণমান, খ্যাতি বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য মূলত এর ভৌগোলিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল নয়—তবে বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ক্ষেত্রেও সেই শব্দটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করবে।

অনুচ্ছেদ ২.৫: পনির ও মাংসের পরিভাষা (Cheese and Meat Terms)

অ্যানেক্স ২-এ তালিকাভুক্ত পনির এবং মাংসের নির্দিষ্ট পরিভাষাগুলো স্রেফ ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পারবে না।

অনুচ্ছেদ ২.৬: বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property)

বাংলাদেশ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী মানদণ্ড নিশ্চিত করবে (টিকা ৩)। বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং সীমান্ত বলবৎকরণের (border enforcement) কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, এই ব্যবস্থাগুলো অনলাইন পরিবেশসহ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের যেকোনো ধরণের অপব্যবহার বা চুরির বিরুদ্ধে কাজ করে এবং তা প্রতিরোধ করে। কপিরাইট (স্বত্ব) এবং ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর ফৌজদারি ও সীমান্ত বলবৎকরণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ২.৭: সেবা (Services)

বাংলাদেশ এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ বা বহাল রাখবে না, যা মার্কিন সেবা বা সেবা প্রদানকারীদের নিজস্ব দেশীয় সেবা প্রদানকারী কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় দেশ, বিচারব্যবস্থা বা অর্থনীতির সেবা প্রদানকারীদের তুলনায় বৈষম্যমূলক অবস্থানে ফেলে। এই অনুচ্ছেদটি সেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যেখানে বাংলাদেশের সকল বাণিজ্য চুক্তিতে উক্ত পদক্ষেপটি কোনো ‘অ-সম্মত পদক্ষেপ’ (non-conforming measure) বা সীমাবদ্ধতা দ্বারা আচ্ছাদিত অথবা উক্ত পদক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো প্রতিশ্রুতিতে বাধ্য নয়।

টিকা ৩: এই চুক্তির উদ্দেশ্যে, “বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ” বলতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ‘বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার’ (TRIPS) চুক্তির দ্বিতীয় অংশের ১ থেকে ৭ নম্বর ধারায় বর্ণিত সকল ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে বোঝাবে। অধিকন্তু, এই চুক্তির উদ্দেশ্যে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষার মধ্যে প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা (technological protection measures) এবং অধিকার ব্যবস্থাপনা তথ্য (rights management information) সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অনুচ্ছেদ ২.৮: উত্তম নিয়ন্ত্রক অনুশীলন (Good Regulatory Practices)

বাংলাদেশ অ্যানেক্স ৩-এর ১.১৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত উত্তম নিয়ন্ত্রক অনুশীলনসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যা পুরো নিয়ন্ত্রক জীবনচক্র জুড়ে (regulatory lifecycle) অধিকতর স্বচ্ছতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

অনুচ্ছেদ ২.৯: শ্রম (Labor)

১. বাংলাদেশ সেই সকল পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বাস্তবায়ন করবে, যা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কয়েদি শ্রম, জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রম (চুক্তিভিত্তিক শ্রম এবং শিশু চুক্তিভিত্তিক শ্রমসহ) দ্বারা খনি থেকে আহরণ, উৎপাদন বা প্রস্তুত করা হয়েছে।⁴

২. বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকারসমূহ রক্ষা করবে।⁵ এর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব আইন ও চর্চায় এই অধিকারগুলো গ্রহণ বা বজায় রাখা এবং শ্রম আইনসমূহ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা—যার অন্তর্ভুক্ত হলো শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গঠন বা বজায় রাখা। বাংলাদেশ এই আইনগুলো লঙ্ঘনের জন্য উপযুক্ত আইনি দণ্ড বা শাস্তির ব্যবস্থা করবে এবং তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে। বাংলাদেশ তার শ্রম আইনের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল বা হ্রাস করবে না; এবং আজ পর্যন্ত বাণিজ্য বা বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য যদি এমন কোনো সুরক্ষা কমানো বা দুর্বল করা হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশ তা সংশোধন করবে।⁶ এছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম অধিকার সংক্রান্ত সেই সকল সমস্যার সমাধান করবে, যা অসম বা অ-পারস্পরিক (non-reciprocal) বাণিজ্যে ভূমিকা রাখে।

অনুচ্ছেদ ২.১০: পরিবেশ

বাংলাদেশ পরিবেশগত সুরক্ষাসমূহ গ্রহণ ও বজায় রাখবে, নিজস্ব পরিবেশ আইনসমূহ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে, শক্তিশালী পরিবেশগত সুশাসন কাঠামো বজায় রাখবে বা প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠা করবে এবং পরিবেশ-সংক্রান্ত সেই সকল সমস্যার সমাধান করবে, যা অ-পারস্পরিক বাণিজ্যে ভূমিকা রাখে।

অনুচ্ছেদ ২.১১: সীমান্ত ব্যবস্থা এবং কর

১. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক সালিশি (regulatory arbitrage) মোকাবিলার জন্য এমন কোনো সীমান্ত ব্যবস্থা (border measure) গ্রহণ করে, যা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অসুবিধায় ফেলে, তবে বাংলাদেশ সেই সমস্যা সমাধানে সমন্বয় করবে এবং নিজস্ব সীমান্ত ব্যবস্থাকে তার সাথে সংগতিপূর্ণ করার প্রচেষ্টা চালাবে।

২. কর ব্যবস্থার পার্থক্যসমূহ একতরফা বা অসম বাণিজ্যের কারণ হতে পারে—এটি স্বীকার করে নিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে সরাসরি কর (direct taxes) রেয়াত দেওয়া বা তা আরোপ করা থেকে বিরত থাকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত কোনো পদক্ষেপকে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ করবে না; এমনকি কাউন্টারভেইলিং ব্যবস্থা গ্রহণ বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) মাধ্যমেও তা করা যাবে না।

টিকা ৪: এই বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যারিফ অ্যাক্ট-এর ধারা ৩০৭-এর অধীনে বিভিন্ন সত্তার (entities) ওপর মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করতে পারে।

টিকা ৫: এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকারের মধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) কর্তৃক গৃহীত ‘কর্মক্ষেত্রে মৌলিক নীতি ও অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা (১৯৯৮)’ (যা ২০২২ সালে সংশোধিত) এর অধিকারসমূহ; শিশুশ্রমের নিকৃষ্টতম রূপগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা; এবং ন্যূনতম মজুরি ও কর্মঘণ্টার বিষয়ে কাজের গ্রহণযোগ্য শর্তাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

টিকা ৬: অধিকতর স্পষ্টতার জন্য, এই অনুচ্ছেদের পরিধির মধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ) অথবা খাত-ভিত্তিক নির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেগুলোতে মূল অর্থনীতির তুলনায় কম শ্রম সুরক্ষা বিদ্যমান।

৩. বাংলাদেশ এমন কোনো মূল্য সংযোজন কর (VAT) আরোপ করবে না, যা আইনগতভাবে বা বাস্তবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক হয়।

৪. বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এমন প্রযুক্তিগত সমাধান বাস্তবায়ন ও বজায় রাখবে, যা নিজ সীমান্তে মার্কিন পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আগাম প্রক্রিয়াকরণ (pre-arrival processing), কাগজবিহীন বাণিজ্য (paperless trade) এবং ডিজিটাল পদ্ধতির নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

ধারা ৩: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি

অনুচ্ছেদ ৩.১: ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স

বাংলাদেশ এমন কোনো ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স বা অনুরূপ কর আরোপ করবে না, যা আইনগতভাবে বা বাস্তবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক হয়।

অনুচ্ছেদ ৩.২: ডিজিটাল বাণিজ্যের সহজীকরণ

১. বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ডিজিটাল বাণিজ্য সহজতর করবে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

  • (ক) মার্কিন ডিজিটাল পণ্যগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক এমন পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা;

  • (খ) ব্যবসা পরিচালনার জন্য সীমান্তজুড়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ (free transfer of data) নিশ্চিত করা; এবং

  • (গ) সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করা।

২. বাংলাদেশ যদি কোনো দেশের সাথে এমন কোনো নতুন ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিহার্য স্বার্থকে বিপন্ন করে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিটি বাতিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে, ২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭’ (Executive Order 14257) অনুযায়ী নির্ধারিত পারস্পরিক শুল্ক হার পুনরায় আরোপ করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে।

অনুচ্ছেদ ৩.৩: ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর আমদানি শুল্ক

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশন (ইলেকট্রনিক উপায়ে প্রেরিত বিষয়বস্তুসহ) এর ওপর কোনো আমদানি শুল্ক আরোপ করবে না। এছাড়া, ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর আমদানি শুল্ক স্থায়ীভাবে স্থগিত রাখার (permanent moratorium) বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) গৃহীত বহুপাক্ষিক উদ্যোগকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে।

অনুচ্ছেদ ৩.৪: বাজারে প্রবেশের শর্তাবলী

১. বাংলাদেশে ব্যবসা করার শর্ত হিসেবে, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত কোনো মার্কিন ব্যক্তিকে তার বিশেষ কোনো প্রযুক্তি, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সোর্স কোড (source code) বা অন্য কোনো মালিকানাধীন জ্ঞান (proprietary knowledge) অনিচ্ছাসত্ত্বেও হস্তান্তর করতে বা তাতে প্রবেশাধিকার দিতে বাংলাদেশ বাধ্য করবে না; অথবা কোনো বিশেষ প্রযুক্তি ক্রয়, ব্যবহার বা অগ্রাধিকার প্রদানে চাপ প্রয়োগ বা কোনো অঙ্গীকার বলবৎ করবে না।

২. এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই নিচের বিষয়গুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে না:

  • (ক) সরকারি ক্রয় (government procurement) প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না;

  • (খ) বাণিজ্যিক আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তিতে সোর্স কোড প্রদান সংক্রান্ত শর্তাবলী অন্তর্ভুক্ত বা বাস্তবায়নে বাধা দেবে না; অথবা

  • (গ) কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্ত, পরিদর্শন, পরীক্ষা, আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপ বা বিচারিক কার্যক্রমের প্রয়োজনে—অননুমোদিত প্রকাশ রোধে পর্যাপ্ত সুরক্ষাকবচ সাপেক্ষে—কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষের কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সফটওয়্যারের সোর্স কোড বা সেই কোডে থাকা অ্যালগরিদম সংরক্ষণের বা তা উপস্থাপনের দাবি করতে বাধা দেবে না।

ধারা ৪: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা

অনুচ্ছেদ ৪.১: পরিপূরক পদক্ষেপসমূহ

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি তার অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কোনো সীমান্ত ব্যবস্থা (border measure) বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা প্রাসঙ্গিক মনে করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তা অবহিত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। এই ধরণের বিজ্ঞপ্তি প্রাপ্তির পর এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে, মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানাতে বাংলাদেশ নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী একটি পরিপূরক বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে।

২. বাংলাদেশের বিচারিক সীমানায় পরিচালিত এবং তৃতীয় কোনো দেশের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিগুলোর এমন সব চর্চা বন্ধে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে যার ফলে: (১) বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি হয়; (২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়; (৩) বাংলাদেশে মার্কিন রপ্তানি হ্রাস পায়; অথবা (৪) তৃতীয় দেশের বাজারে মার্কিন রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধরণের ‘বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামি’ পণ্য সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের সাথে বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ৪.২: রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ

১. জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল প্রযুক্তি এবং পণ্যসমূহের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যমান বহুপাক্ষিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করবে; উক্ত প্রযুক্তি ও পণ্যসমূহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে; এবং নিশ্চিত করবে যে, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো যেন এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে কোনো শূন্যস্থান পূরণ (backfill) বা একে দুর্বল না করে।

২. বাংলাদেশের নিজস্ব আইনের প্রযোজ্য প্রয়োজনীয়তার সাথে সংগতি রেখে এবং সেই আইনের অনুমতি সাপেক্ষে, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এমনভাবে সহযোগিতা করবে যেন সেই সকল লেনদেন সীমিত করা যায়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অথবা কোনো মার্কিন ব্যক্তির দ্বারা সম্পন্ন হলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন বলে গণ্য হতো।⁷

৩. অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অন্তর্মুখী বিনিয়োগ (inbound investment) সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

৪. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বাংলাদেশ অংশীদারিত্বমূলক জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো মোকাবিলায় সহযোগিতা করছে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পর্যালোচনা এবং অন্যান্য পদক্ষেপ সংক্রান্ত নিজস্ব আইন ও বিধিমালা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই সহযোগিতাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে।

টিকা ৭: এই লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল ব্যক্তি ও সত্তা যারা মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ‘ব্যুরো অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’-র এনটিটি লিস্টে তালিকাভুক্ত, এবং মার্কিন অর্থ বিভাগের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (OFAC)-এর এসডিএন (SDN) তালিকা এবং নন-এসডিএন সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৪.৩: অন্যান্য পদক্ষেপ

১. প্রতিরক্ষা বাণিজ্যকে আরও সহজতর ও উন্নত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে কাজ করবে।

২. বাজার-ভিত্তিক অর্থনীতির (market economy) দেশগুলোর মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ এবং নৌ-পরিবহন (shipping) শিল্পকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উভয় পক্ষ এই ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করবে।

৩. বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ফাঁকি রোধে একটি সহযোগিতা চুক্তিতে (duty evasion cooperation agreement) আবদ্ধ হবে।

৪. বাংলাদেশ যদি কোনো অ-বাজার অর্থনীতিসম্পন্ন (non-market country) দেশের সাথে এমন কোনো নতুন দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যা এই বর্তমান চুক্তির পরিপন্থী, এবং আলোচনার মাধ্যমে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসন না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিটি বাতিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে ২ এপ্রিল ২০২৫-এর ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭’ অনুযায়ী নির্ধারিত পারস্পরিক শুল্ক হার পুনরায় আরোপ করা হতে পারে।

৫. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিহার্য স্বার্থকে বিপন্ন করে এমন কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশ কোনো পারমাণবিক রিয়্যাক্টর, ফুয়েল রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয় করবে না; তবে বিশেষ মালিকানাধীন (proprietary) সামগ্রী যার কোনো বিকল্প সরবরাহকারী নেই, অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান রিয়্যাক্টরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় যেসব প্রযুক্তি বা সামগ্রীর চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে।

ধারা ৫: বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সুযোগ

অনুচ্ছেদ ৫.১: বিনিয়োগ

১. বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি অনুসন্ধান, খনি থেকে আহরণ, নিষ্কাশন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বিতরণ এবং রপ্তানির জন্য মার্কিন সরাসরি বিনিয়োগকে (Direct Investment) অনুমতি ও সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন এবং অবকাঠামো সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজস্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সমপর্যায়ের (no less favorable) সুযোগ-সুবিধা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রদান করবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মানদণ্ড অনুযায়ী এই বিনিয়োগগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন—’এক্সিম ব্যাংক’ (EXIM Bank) এবং ‘ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন’ (DFC)-এর মাধ্যমে (যোগ্যতা সাপেক্ষে) বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ অর্থায়নে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবে। এটি মার্কিন বেসরকারি অংশীদারদের সাথে সমন্বয়ে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

৩. বাংলাদেশ সাধ্যমতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী নতুন (greenfield) বিনিয়োগে সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৫.২: বাণিজ্যিক বিবেচনা

১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, তার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসমূহ (SOEs) এবং তার বাজারে পরিচালিত তৃতীয় দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে: (ক) পণ্য বা সেবা ক্রয়ে বাণিজ্যিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করবে; (খ) মার্কিন পণ্য বা সেবার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকবে; এবং (গ) অ-বাণিজ্যিক জনসেবামূলক পণ্য উৎপাদনকারী ব্যতীত অন্য কোনো দেশীয় পণ্য উৎপাদককে ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকবে। বাংলাদেশ তার নিজস্ব পণ্য উৎপাদনকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো প্রকার অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকি প্রদান করা থেকে বিরত থাকবে।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুরোধে, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে পরিচালিত যেকোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে (অ-বাণিজ্যিক জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত) প্রদত্ত সব ধরণের অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করবে। এছাড়া এই ভর্তুকি বা সহায়তা ব্যবস্থা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্যমূলক প্রভাব (distortive impacts) তৈরি করে, তবে বাংলাদেশ তা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ৫.৩: টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি পদ্ধতি (mechanism) গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য ‘শূণ্য পারস্পরিক শুল্ক হার’ (zero reciprocal tariff rate) সুবিধা পাবে। এই পদ্ধতির আওতায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (to-be-specified volume) বাংলাদেশি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্ক হারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই আমদানির পরিমাণ নির্ধারিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হওয়া টেক্সটাইল সামগ্রীর (যেমন: মার্কিন উৎপাদিত তুলা এবং মানবসৃষ্ট তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবার) পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।

অনুচ্ছেদ ৫.৪: ক্রয়

অ্যানেক্স ৩-এর ধারা ৬-এ যেভাবে নির্ধারিত হয়েছে, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করবে।

ধারা ৬: বাস্তবায়ন, বলবৎকরণ এবং চূড়ান্ত বিধানাবলী

অনুচ্ছেদ ৬.১: অ্যানেক্স, অ্যাপেন্ডিক্স এবং পাদটীকা

এই চুক্তির অ্যানেক্স, অ্যাপেন্ডিক্স এবং পাদটীকাগুলো এই চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অনুচ্ছেদ ৬.২: পরিবর্তন এবং সংশোধন

উভয় পক্ষই এই চুক্তির যুক্তিসঙ্গত পরিবর্তনের অনুরোধ করতে পারবে, যা অপর পক্ষ সদিচ্ছার সাথে বিবেচনা করবে। উভয় পক্ষ লিখিতভাবে এই চুক্তি সংশোধনের বিষয়ে একমত হতে পারে, যদি সেই সংশোধন এই চুক্তির বা পক্ষগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অন্য কোনো চুক্তির সুবিধাগুলোকে ক্ষুণ্ণ না করে।

অনুচ্ছেদ ৬.৩: উৎপত্তিস্থল সংক্রান্ত নিয়মাবলী (Rules of Origin)

উভয় পক্ষের অভিপ্রায় হলো এই চুক্তির সুবিধাগুলো মূলত তাদের এবং তাদের নাগরিকদের কাছে পৌঁছানো। যদি এই চুক্তির সুবিধাসমূহ মূলত তৃতীয় দেশ বা তৃতীয় দেশের নাগরিকদের কাছে পৌঁছায়, তবে যেকোনো পক্ষ—সম্ভব হলে অপর পক্ষের সাথে আলোচনার পর—এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রুলস অফ অরিজিন’ বা উৎপত্তিস্থল সংক্রান্ত নিয়মাবলী নির্ধারণ করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৪: বলবৎকরণ

১. এই চুক্তির কোনো কিছুই কোনো পক্ষকে অনুচিত বাণিজ্যিক চর্চা প্রতিকার করতে, আকস্মিক আমদানি বৃদ্ধি মোকাবিলা করতে, তার অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে, অথবা তার আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ অন্য কোনো অনুরূপ কারণে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে বাধা প্রদান করবে না।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে যে বাংলাদেশ এই চুক্তির কোনো বিধান মেনে চলেনি, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভব হলে বাংলাদেশের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেবে। যদি এই আলোচনার মাধ্যমে কোনো সন্তোষজনক ফলাফল না আসে, তবে উক্ত নিয়ম লঙ্ঘনের প্রতিকার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বা সমস্ত আমদানির ওপর ২ এপ্রিল ২০২৫-এর ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭’ অনুযায়ী নির্ধারিত পারস্পরিক শুল্ক হার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৫: অবসান

যেকোনো পক্ষ অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে এই চুক্তির অবসান ঘটাতে পারবে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশ প্রদানের ৬০ দিন পর অথবা উভয় পক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখে এই অবসান কার্যকর হবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৬: কার্যকর হওয়া

উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে মর্মে লিখিত বিজ্ঞপ্তি বিনিময়ের ৬০ দিন পর অথবা উভয় পক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখে এই চুক্তি কার্যকর হবে।

অ্যানেক্স ১

তফশিল ১: বাংলাদেশের শুল্ক তালিকা

সাধারণ নোটসমূহ

১. এই তফশিলের বিধানসমূহ সাধারণত সংশোধিত কাস্টমস অ্যাক্ট ২০২৩-এর প্রথম তফশিল (বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ) অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে। এই তফশিলের উপ-শিরোনামগুলোর পণ্য অন্তর্ভুক্তিসহ অন্যান্য বিধানের ব্যাখ্যা বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের সাধারণ নোট, সেকশন নোট এবং চ্যাপ্টার নোট অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এই তফশিলের বিধানসমূহ যদি বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের সংশ্লিষ্ট বিধানের সাথে হুবহু মিলে যায়, তবে সেগুলোর অর্থও বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের সংশ্লিষ্ট বিধানের অনুরূপ হবে।

২. এই তফশিলে নির্ধারিত শুল্কের মূল হারসমূহ (base rates of duty) ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে কার্যকর বাংলাদেশের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (MFN) শুল্ক হারকে প্রতিফলিত করে, যার মধ্যে সম্পূরক শুল্ক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৩. বাংলাদেশ এই তফশিলে প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, আমদানি শুল্কের মধ্যে কাস্টমস ডিউটি (“CD”), সংশোধিত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এ সংজ্ঞায়িত সম্পূরক শুল্ক (“SD”) এবং কাস্টমস অ্যাক্ট ২০২৩-এ সংজ্ঞায়িত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (“RD”) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৪. এই তফশিলে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পর্যায়ভিত্তিক বিভাগসমূহ (staging categories) প্রযোজ্য হবে:

  • (ক) ‘EIF’ বিভাগ: এই বিভাগভুক্ত উৎপাদিত পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে এবং এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে উক্ত পণ্যগুলো শুল্কমুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

  • (খ) ‘B5’ বিভাগ: এই বিভাগভুক্ত উৎপাদিত পণ্যের আমদানি শুল্ক এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সময় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হবে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পরবর্তী চার বছরে সমান চারটি বার্ষিক ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে উক্ত পণ্যগুলো সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে।

  • (গ) ‘B10’ বিভাগ: এই বিভাগভুক্ত উৎপাদিত পণ্যের আমদানি শুল্ক এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সময় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হবে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পরবর্তী নয় বছরে সমান নয়টি বার্ষিক ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। দশম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে উক্ত পণ্যগুলো সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে।

  • (ঘ) ‘A’ বিভাগ: এই বিভাগভুক্ত উৎপাদিত পণ্যের আমদানি শুল্ক শূন্য থাকবে।

  • (ঙ) ‘X’ বিভাগ: এই বিভাগভুক্ত উৎপাদিত পণ্যসমূহ বাংলাদেশের প্রযোজ্য এমএফএন (MFN) আমদানি শুল্ক হারের অধীনেই বহাল থাকবে।

৫. এই তফশিলের শুল্ক আইটেমগুলোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ভিত্তিক হারসমূহ শতাংশের নিকটতম দশমাংশ পর্যন্ত পূর্ণসংখ্যায় প্রকাশ করা হবে; অথবা যদি শুল্কের হার আর্থিক এককে প্রকাশিত হয়, তবে তা নিকটতম এক বাংলাদেশি টাকা হিসেবে গণ্য হবে।

৬. এই তফশিলের উদ্দেশ্যে, “প্রথম বছর” বলতে ধারা ৬-এ বর্ণিত চুক্তি কার্যকর হওয়ার বছরকে বোঝাবে, যা চুক্তি কার্যকরের তারিখ থেকে শুরু হয়ে ওই একই বছরের ৩১শে ডিসেম্বর তারিখে শেষ হবে।

৭. এই তফশিলের উদ্দেশ্যে, দ্বিতীয় বছর থেকে শুরু করে শুল্ক হ্রাসের প্রতিটি বার্ষিক পর্যায় সংশ্লিষ্ট বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

তফশিল ২: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক তালিকা

সাধারণ নোটসমূহ

১. এই তফশিলের বিধানসমূহ সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হারমোনাইজড ট্যারিফ শিডিউল’ (HTSUS) অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে। এই তফশিলের উপ-শিরোনামগুলোর পণ্য অন্তর্ভুক্তিসহ অন্যান্য বিধানের ব্যাখ্যা HTSUS-এর সাধারণ নোট, সেকশন নোট এবং চ্যাপ্টার নোট অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

২. এই তফশিলে নির্ধারিত বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭’ (বিশাল ও দীর্ঘস্থায়ী বার্ষিক মার্কিন পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টিকারী বাণিজ্যিক চর্চা সংশোধনে পারস্পরিক শুল্কের মাধ্যমে আমদানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত)-এ বর্ণিত অতিরিক্ত ‘অ্যাড ভ্যালোরম’ (মূল্যানুপাতিক) শুল্ক হার আরোপ করবে না।

৩. বাংলাদেশের উৎপাদিত অন্যান্য সকল পণ্যের ক্ষেত্রে, ২ এপ্রিল ২০২৫-এর সংশোধিত ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭’-এ বর্ণিত অতিরিক্ত অ্যাড ভ্যালোরম শুল্কের হার ১৯ শতাংশের বেশি হবে না।

৪. অধিকতর স্পষ্টতার জন্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুচ্ছেদ ২ এবং ৩-এ বর্ণিত শুল্ক হার বর্তমানে কার্যকর মার্কিন এমএফএন (MFN) শুল্ক হারের অতিরিক্ত হিসেবে আরোপ করবে।

অ্যানেক্স ২

বাজার প্রবেশাধিকার তালিকা

(ক) পনিরসমূহ (Cheeses):

১. আমেরিকান; ২. আসিয়াগো; ৩. ব্লু; ৪. ব্লু ভেইন; ৫. ব্রি; ৬. বুরাটা; ৭. ক্যামেমবার্ট; ৮. চেডার; ৯. শেভ্রে; ১০. কোলবি; ১১. কটেজ চিজ; ১২. কুলোমিয়ার্স; ১৩. ক্রিম চিজ; ১৪. ড্যানবো; ১৫. এডাম; ১৬. এমেন্টাল; ১৭. ফেটা; ১৮. ফন্টিনা; ১৯. গরগনজোলা; ২০. গৌডা; ২১. গ্রানা; ২২. গ্রুয়ের; ২৩. হাভারটি; ২৪. লিমবার্গার; ২৫. মাস্কারপোন; ২৬. মন্টেরি/মন্টেরি জ্যাক; ২৭. মোজারেলা; ২৮. মানস্টার/মুয়েনস্টার; ২৯. নিউফচ্যাটেল; ৩০. পারমেজান; ৩১. পেকোরিনো; ৩২. পেপার জ্যাক; ৩৩. প্রোভোলোন; ৩৪. রিকোটা; ৩৫. রোমানো; ৩৬. সেন্ট-পলিন; ৩৭. সামসো; ৩৮. সুইস; ৩৯. তিলসিটার; এবং ৪০. টম।

(খ) মাংসসমূহ:

১. ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম; ২. বোলোনিয়া; ৩. ব্র্যাটওয়ার্স্ট; ৪. ক্যাপিকোলা/ক্যাপোকোলো; ৫. কোরিজো; ৬. কিয়েলবাসা; ৭. মর্টাডেলা; ৮. প্যানচেটা; ৯. প্রসিউটো; এবং ১০. সালামি।

অ্যানেক্স ৩

সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারসমূহ

ধারা ১: অশুল্ক বাধা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ

শিল্পজাত পণ্য

অনুচ্ছেদ ১.১: চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধ

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কোনো চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে মার্কিন ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (FDA) কর্তৃক প্রদত্ত পূর্বতন বিপণন অনুমোদন বা ছাড়পত্রকে বাংলাদেশ নিজস্ব বিপণন অনুমোদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে। যেসব স্বল্প-ঝুঁকির চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে FDA-র অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না, বাংলাদেশ সেগুলোর ক্ষেত্রেও বিপণন অনুমোদন দাবি করবে না।

২. চিকিৎসা সরঞ্জাম অনুমোদনের প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশ মার্কিন FDA-র ‘ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট টু ফরেন গভর্নমেন্টস’ (eCFGs) গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো হার্ডকপি, মূল কপি, সত্যায়িত কপি, হাতে করা স্বাক্ষর (wet signature) বা অ্যাপোস্টিল (apostille) দাবি করবে না।

৩. বাংলাদেশ ‘ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল ডিভাইস রেগুলেটরস ফোরাম’ (IMDRF)-এর সহযোগী সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করবে। চিকিৎসা সরঞ্জামের বিপণন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিধিমালা প্রণয়ন বা বাস্তবায়নের সময় বাংলাদেশ IMDRF কর্তৃক প্রণীত প্রাসঙ্গিক বৈজ্ঞানিক বা কারিগরি নির্দেশিকাগুলো গ্রহণ করবে।

৪. ‘মেডিকেল ডিভাইস সিঙ্গেল অডিট প্রোগ্রাম’ (MDSAP)-এর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সম্পন্ন করা এবং MDSAP-এর অংশগ্রহণকারী নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত অডিট সংস্থা দ্বারা পরিচালিত সরঞ্জাম উৎপাদনকারীদের ‘কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর অডিট এবং সনদসমূহ বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেবে। বাংলাদেশ MDSAP-এর প্রয়োজনীয় শর্তাবলীর বাইরে অতিরিক্ত কোনো নিয়ন্ত্রক শর্ত আরোপ করবে না।

৫. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কোনো ওষুধ বা ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন FDA কর্তৃক প্রদত্ত পূর্বতন বিপণন অনুমোদনকে বাংলাদেশ নিজস্ব দেশে বিপণন অনুমোদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে।

৬. কোনো ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের অনুমোদনের প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশ মার্কিন FDA-র ‘ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাক্টস’ (eCPPs) গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে কোনো হার্ডকপি, মূল কপি, সত্যায়িত কপি, হাতে করা স্বাক্ষর বা অ্যাপোস্টিল দাবি করা হবে না।

৭. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিপূর্বে বিপণন অনুমোদন পেয়েছে এমন কোনো ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমিক পুনঃঅনুমোদন (periodic re-authorization) দাবি করবে না, যদি না বাংলাদেশ উক্ত পণ্যের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা বা গুণমান বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ চিহ্নিত করে।

৮. বাংলাদেশ নিচের শর্তাবলি পূরণ হওয়া সাপেক্ষে, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের উৎপাদন কারখানার জন্য মার্কিন FDA কর্তৃক পরিচালিত ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ (GMP) নজরদারি পরিদর্শনের ফলাফল গ্রহণ করবে এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনরায় কোনো পরিদর্শনের প্রয়োজন হবে না:

  • (ক) উৎপাদন কারখানাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত হতে হবে; এবং

  • (খ) কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহকৃত সর্বশেষ মার্কিন FDA পরিদর্শন রিপোর্টে ‘নো অ্যাকশন ইন্ডিকেটেড’ (NAI) শ্রেণিভুক্ত থাকতে হবে, যা প্রমাণ করে যে সেখানে কোনো আপত্তিজনক অবস্থা বা চর্চা নেই।

 

অনুচ্ছেদ ১.২: মোটরযান এবং যন্ত্রাংশ

১. বাংলাদেশ সেই সকল যানবাহন এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশ গ্রহণ করবে যা মার্কিন ‘ফেডারেল মোটর ভেহিকেল সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস’ (FMVSS) এবং মার্কিন নির্গমন (emissions) মানদণ্ড মেনে চলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয়। এছাড়া, মার্কিন যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের জন্য কোনো অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ছাড়াই অটোমোটিভ পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন কমপ্লায়েন্স পদ্ধতি গ্রহণ করবে।⁸

২. বাংলাদেশ মার্কিন যানবাহন এবং যন্ত্রাংশের প্রতি বৈষম্যমূলক হতে পারে এমন অন্য কোনো মানদণ্ড বা প্রয়োজনীয়তা থাকলে তা নিরসন করবে।

অনুচ্ছেদ ১.৩: পুনরুৎপাদিত পণ্য (Remanufactured Goods)

বাংলাদেশ মার্কিন পুনরুৎপাদিত পণ্য বা তাদের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং যেকোনো লাইসেন্সিং প্রয়োজনীয়তা অপসারণ করবে (টিকা ৯)।

কৃষি

অনুচ্ছেদ ১.৪: মার্কিন খাদ্য ও কৃষি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্বীকৃতি এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত সনদের গ্রহণযোগ্যতা

১. বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেবে যে, মার্কিন সরকার কর্তৃক গৃহীত বা বজায় রাখা খাদ্য ও কৃষি পণ্যের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (SPS) পদক্ষেপ এবং অন্যান্য ব্যবস্থা (কারিগরি বিধিমালা ও মানদণ্ডসহ)¹⁰ বাংলাদেশে আমদানিকৃত খাদ্য ও কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব পদক্ষেপসমূহের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে।

২. অনুচ্ছেদ ১-এর ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পরিপালন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ মার্কিন সরকারের দাপ্তরিক সনদ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, দ্বিপাক্ষিক রপ্তানি সনদ সংক্রান্ত নথি বা ইলেকট্রনিক তথ্য উপাদানে ভবিষ্যতে যেকোনো পরিবর্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতিক্রমেই করা হবে।

৩. মার্কিন খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সনদগুলোতে বাংলাদেশ সত্যায়ন এবং তথ্যের চাহিদা কেবল প্রযোজ্য মার্কিন শর্তাবলি পরিপালনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে।

৪. বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি পদক্ষেপ সংক্রান্ত চুক্তির অ্যানেক্স B এবং কারিগরি বাণিজ্য বাধা (TBT) সংক্রান্ত চুক্তির অনুচ্ছেদ ২ ও অনুচ্ছেদ ৫-এর অধীনে তার প্রতিশ্রুতিসমূহ নিশ্চিত করছে, যার লক্ষ্য হলো প্রস্তাবিত পদক্ষেপসমূহ যথোপযুক্তভাবে WTO-এর SPS বা TBT কমিটিকে অবহিত করা এবং কোনো পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার আগে WTO সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনা করা।

টিকা ৮: পক্ষসমূহ সম্মত যে, মার্কিন মানদণ্ডসমূহ অন্তত বাংলাদেশের মানদণ্ডের সমান পর্যায়ের পরিবেশগত সুরক্ষা প্রদান করে।

টিকা ৯: একটি পুনরুৎপাদিত পণ্যকে নতুন অবস্থার সমরূপ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল কারিগরি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।

টিকা ১০: অধিকতর স্পষ্টতার জন্য, এই মার্কিন পদক্ষেপগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ; প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের নিয়ন্ত্রক তদারকি; পচনশীল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের লেবেলিং; কৃষি উৎপাদন সুরক্ষার পদক্ষেপ।

অনুচ্ছেদ ১.৫: স্থাপনা নিবন্ধন / প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি

দুগ্ধজাত পণ্য

১. বাংলাদেশ:

  • (ক) মার্কিন দুগ্ধ-নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের দুগ্ধ-নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমপর্যায়ের সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে;

  • (খ) গরু, ভেড়া এবং ছাগলজাত মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির অনুমতি দেবে যদি সেগুলোর সাথে মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) ‘এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং সার্ভিস’ (AMS) প্রদত্ত ডেইরি স্যানিটারি সার্টিফিকেট থাকে; এবং

  • (গ) বাংলাদেশে মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো স্থাপনা নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা গ্রহণ বা বজায় রাখবে না।

মাংস ও পোল্ট্রি (অফালসহ), মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোল্ট্রি, সিলুরিফর্মেস এবং ডিমজাত পণ্য

২. মার্কিন মাংস ও পোল্ট্রি (অফালসহ), মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পোল্ট্রি, সিলুরিফর্মেস এবং ডিমজাত পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা সহ মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর USDA-এর ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস’ (FSIS)-এর তদারকিকে স্বীকৃতি দেবে।

৩. বাংলাদেশ FSIS দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মাংস, পোল্ট্রি, সিলুরিফর্মেস এবং ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল তালিকা হিসেবে ‘FSIS Meat, Poultry, and Egg Product Inspection Directory’-কে স্বীকৃতি দেবে, যারা বাংলাদেশে এই পণ্যসমূহ রপ্তানির যোগ্য।

৪. বাংলাদেশ FSIS দ্বারা পরিদর্শিত এবং ‘FSIS Export Certificate of Wholesomeness’ (FSIS 9060-5 সিরিজ সার্টিফিকেট) অথবা ইলেকট্রনিক ডেটা উপাদান সম্বলিত মার্কিন মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য গ্রহণ করবে।

৫. মার্কিন মাংস ও পোল্ট্রি পণ্যের ওপর বাংলাদেশ অতিরিক্ত কোনো পণ্য নিবন্ধন বা স্থাপনা নিবন্ধনের শর্ত আরোপ করবে না।

অনুচ্ছেদ ১.৬: কৃষি বায়োটেকনোলজি

১. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং ইনপুট অপ্টিমাইজ করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কৃষি বায়োটেকনোলজির সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে, বাংলাদেশ এই জাতীয় পণ্যের বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে একটি বিজ্ঞান ও ঝুঁকি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং দক্ষ অনুমোদন প্রক্রিয়া বজায় রাখবে।

২. কৃষি বায়োটেকনোলজি পণ্যের নিরাপত্তা নিরূপণে মার্কিন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দিয়ে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে যার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনত বিক্রয়যোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট সকল মার্কিন প্রি-মার্কেট প্রক্রিয়া সম্পন্নকারী কৃষি বায়োটেকনোলজি পণ্যসমূহকে¹¹ বাংলাদেশে পুনরায় অনুমোদন, অতিরিক্ত লেবেলিং শর্ত বা বাংলাদেশের অনুমোদনের প্রয়োজন ছাড়াই আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হবে।

৩. মার্কিন কৃষি রপ্তানিকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো ‘লো-লেভেল প্রেজেন্স’ (LLP) বা সামান্য উপস্থিতি সংক্রান্ত ঘটনার সমাধানে বাংলাদেশ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, যা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো তৃতীয় দেশ কর্তৃক প্রদত্ত প্রাসঙ্গিক ঝুঁকি নিরূপণকে বিবেচনায় নিয়ে সম্পন্ন হবে।

টিকা ১১: অধিকতর স্পষ্টতার জন্য, শিল্পে ব্যবহারের পণ্যসমূহ কৃষি বায়োটেকনোলজি পণ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

অনুচ্ছেদ ১.৭: প্রাণহীন রূপান্তরিত জীব (Non-Living Modified Organisms)

বাংলাদেশ স্বীকৃতি প্রদান করছে যে, কৃষি বায়োটেকনোলজি থেকে উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কৃষিপণ্য ‘জীবন্ত রূপান্তরিত জীব’ (LMO) ধারণ করে না এবং তাই এগুলো বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আওতাধীন নয়। এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে, “প্রক্রিয়াজাত” বলতে তাপীয় চিকিৎসা, পেষণ বা অন্য কোনো প্রক্রিয়াকরণকে বোঝাবে যা কৃষি বায়োটেকনোলজি পণ্যের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

অনুচ্ছেদ ১.৮: উচ্চ সংক্রামক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (HPAI) – জীবন্ত পোল্ট্রি এবং পোল্ট্রি পণ্য সামগ্রী

১. জীবন্ত পোল্ট্রি, পোল্ট্রি জেনেটিক্স, পোল্ট্রি পণ্য এবং ডিম ও ডিমজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে না যা বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থার (WOAH) ‘টেরেস্ট্রিয়াল অ্যানিম্যাল হেলথ কোড’ (TAHC) অধ্যায় ১০.৪ অথবা এর উত্তরসূরি কোনো বিধির সাথে অসংগতিপূর্ণ। বিশেষভাবে, বাংলাদেশ পোল্ট্রির আমদানি সংক্রান্ত সংজ্ঞাকে WOAH TAHC-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

২. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে, বাংলাদেশ জীবন্ত পোল্ট্রি ও পোল্ট্রি পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের HPAI আঞ্চলিকীকরণ বা ‘রিজিওনালাইজেশন’-এর পরিধি ‘রাজ্য পর্যায়’ থেকে কমিয়ে ‘১০ কিলোমিটার জোন’ বা এলাকাভিত্তিক করবে। বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, HPAI প্রাদুর্ভাবের প্রতিক্রিয়ায় আরোপিত যেকোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা কেবল সেই ১০ কিলোমিটার জোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে যেখানে প্রাদুর্ভাবটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. কোনো ১০ কিলোমিটার জোন HPAI মুক্ত কি না এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করা যাবে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ USDA-এর ‘অ্যানিম্যাল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস’-কে (APHIS) যোগ্য প্রাণী স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যে ধরণের বিধিনিষেধ বলবৎ থাকে, বাংলাদেশ তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।

অনুচ্ছেদ ১.৯: হালাল সনদ (Halal Certification)

যদি বাংলাদেশের হালাল সনদের প্রয়োজন হয়, তবে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থাকে—যারা বাংলাদেশের হালাল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করে—অতিরিক্ত কোনো শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশে আমদানির জন্য পণ্যসমূহকে হালাল হিসেবে প্রত্যয়ন করার অনুমতি দেবে (টিকা ১২)।

টিকা ১২: এটি কেবল সেই সব পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যেখানে হালাল সনদ বাধ্যতামূলক।

অনুচ্ছেদ ১.১০: সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমা (MRLs)¹³

১. বিজ্ঞান ও ঝুঁকি-ভিত্তিক MRL নির্ধারণের গুরুত্ব স্বীকার করে, যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো MRL নির্ধারণ করেনি, সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ‘টলারেন্স’ (tolerances) বা সহনমাত্রাগুলোকে স্বীকৃতি দেবে ও গ্রহণ করবে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কোনো সংশ্লিষ্ট সহনমাত্রা না থাকে, তবে বাংলাদেশ ‘কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস’ (Codex)-এর সংশ্লিষ্ট MRL-কে স্বীকৃতি দেবে ও গ্রহণ করবে।

২. সংশ্লিষ্ট MRL লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ যদি প্রয়োজন মনে করে তবে কেবল সেই লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সত্তার (entity) ওপর বর্ধিত ও ঝুঁকি-ভিত্তিক নজরদারি প্রয়োগ করবে। এছাড়া বাংলাদেশ উক্ত অভিযুক্ত লঙ্ঘন নিয়ে বিতর্ক করার বা তা সমাধানের সুযোগ সংশ্লিষ্ট দায়ী সত্তাকে প্রদান করবে।

৩. MRL লঙ্ঘনের দায়ে মার্কিন কোনো সত্তার কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি বাংলাদেশ কেবল সংশ্লিষ্ট দায়ী সত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে এবং তা কেবল একাধিকবার নিয়ম লঙ্ঘনের পরেই করা যাবে।

৪. MRL পরিপালন নির্ধারণে ব্যবহৃত পরীক্ষার পদ্ধতি এবং মার্কার রেসিডিউসমূহ যেন সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ MRL, মার্কিন টলারেন্স বা কোডেক্স MRL-এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত ঝুঁকি নিরূপণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, বাংলাদেশ তা নিশ্চিত করবে।

অনুচ্ছেদ ১.১১: উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার

১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন পক্ষ থেকে বাজারে প্রবেশের কোনো অনুরোধ জমা দেওয়া হলে, বাংলাদেশ অনুরোধ জমা দেওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে বাজার প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং আমদানির অনুমতি প্রদানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রোটোকল বা সমঝোতায় পৌঁছাবে।

২. ক্ষতিকর পতঙ্গ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ‘সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ (systems approach)-এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফর ফাইটোস্যানিটারি মেজারস ১৪’ (ISPM 14)-কে স্বীকৃতি দিয়ে, বাংলাদেশ তার দেশে মার্কিন উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিস্টেম অ্যাপ্রোচ প্রোটোকল গ্রহণ করবে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সিস্টেম অ্যাপ্রোচের জন্য অনুরোধ জমা দেওয়া হলে, বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় ২৪ মাসের মধ্যে উক্ত প্রোটোকলে সম্মত হবে।

টিকা ১৩: অধিকতর স্পষ্টতার জন্য, “সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ স্তর” (maximum residue level)-এর অর্থ “সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমা” (maximum residue limit)-এর অনুরূপ।

আমদানি লাইসেন্সিং

অনুচ্ছেদ ১.১২: আমদানি লাইসেন্সিং

১. আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতি সংক্রান্ত চুক্তির অনুচ্ছেদ ৭.৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অবিলম্বে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতি বিষয়ক তার বার্ষিক প্রশ্নাবলী জমা দেবে।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য পণ্য বা কৃষি পণ্য জাহাজীকরণের (shipment) পূর্বে বাংলাদেশ কোনো আমদানি পারমিট বা লেটার অফ ক্রেডিট (LC) দাবি করবে না।

মেধা সম্পদ

অনুচ্ছেদ ১.১৩: ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical Indications)

ভৌগোলিক নির্দেশকের সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে (কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রেক্ষাপটসহ), বাংলাদেশ:

(ক) অনুবাদ বা লিপ্যন্তরের (transliteration) ক্ষেত্রসহ পরীক্ষা, আপত্তি এবং বাতিলের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায্য পদ্ধতি নিশ্চিত করবে;

(খ) নিশ্চিত করবে যে, প্রত্যাখ্যান, আপত্তি এবং বাতিলের কারণগুলোর মধ্যে পূর্ববর্তী কোনো ট্রেডমার্কের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সম্ভাবনা এবং উক্ত শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের সাধারণ নাম হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রচলিত কি না, তা অন্তর্ভুক্ত থাকে;

(গ) সুরক্ষাপ্রাপ্ত জিআই শব্দটির কোন অংশ বা অংশসমূহকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং কোন অংশগুলোকে দেওয়া হচ্ছে না, তা জনসমক্ষে চিহ্নিত করবে;

(ঘ) একটি বহুপদবিশিষ্ট (multi-component) জিআই শব্দের কোনো একটি অংশকে আলাদাভাবে সুরক্ষা দেবে না, যদি ওই অংশটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের সাধারণ নাম হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রচলিত কোনো শব্দ হয়;

(ঙ) বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সুরক্ষাপ্রাপ্ত বা স্বীকৃত কোনো ভৌগোলিক নির্দেশকের পরোক্ষ উল্লেখের (evocation) দোহাই দিয়ে কোনো শব্দ, চিহ্ন বা চিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহারে তৃতীয় পক্ষকে বাধা দেবে না; এবং

(চ) কোনো শব্দ সংশ্লিষ্ট পণ্যের সাধারণ নাম হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রচলিত কি না তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, ওই শব্দটিকে বাংলাদেশের ভোক্তারা কীভাবে বোঝেন তা বিবেচনা করার ক্ষমতা রাখবে এবং সেই ভোক্তা-উপলব্ধির ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ যেমন—

(i) নির্ভরযোগ্য উৎস (অভিধান, সংবাদপত্র, ওয়েবসাইট) অনুযায়ী শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের ধরন বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কি না;

(ii) বাংলাদেশের ভূখণ্ডে উক্ত শব্দ দ্বারা নির্দেশিত পণ্যটি কীভাবে বাজারজাত ও বাণিজ্যে ব্যবহৃত হয়;

(iii) প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে (যেমন- Codex) শব্দটিকে কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা শ্রেণির নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় কি না;

(iv) শব্দটি যে ব্যক্তি বা পক্ষ নিজের দাবি করছে, তারা ছাড়া অন্য কেউ সংশ্লিষ্ট পণ্যের নাম হিসেবে শব্দটি ব্যবহার করে কি না;

(v) আবেদনকৃত ভূখণ্ড ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্যটি বাংলাদেশে আমদানি করা হয় কি না এবং সেই আমদানিকৃত পণ্যগুলো এই শব্দ দ্বারা পরিচিত কি না; এবং

(vi) আবেদনকৃত ভূখণ্ড ছাড়া অন্য কোনো স্থানে পণ্যটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত বা কেনাবেচা হয় কি না—তা স্বীকৃতি দেবে।

অনুচ্ছেদ ১.১৪: আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ

বাংলাদেশ যদি ইতিমধ্যে নিচের চুক্তিগুলোর পক্ষ না হয়ে থাকে, তবে নিম্নোক্ত চুক্তিসমূহ অনুসমর্থন (ratify) বা তাতে যোগদান (accede) করবে এবং নিচের সময়সীমা অনুযায়ী প্রতিটি চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবে:

(ক) ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৮৬ তারিখে বার্নে সম্পাদিত ‘বার্ন কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অফ লিটারারি অ্যান্ড আর্টিস্টিক ওয়ার্কস’;

(খ) ‘বুদাপেস্ট ট্রিটি অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অফ দ্য ডিপোজিট অফ মাইক্রোঅর্গানিজম ফর দ্য পারপাসেস অফ পেটেন্ট প্রসিডিউর’ (৫ বছরের মধ্যে);

(গ) ‘জেনেভা অ্যাক্ট অফ দ্য হেগ এগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন’ (৫ বছরের মধ্যে);

(ঘ) ‘প্রোটোকল রিলেটিং টু দ্য মাদ্রিদ এগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অফ মার্কস’ (৩ বছরের মধ্যে);

(ঙ) ‘মারাকেশ ট্রিটি টু ফ্যাসিলিটেট অ্যাকসেস টু পাবলিশড ওয়ার্কস ফর পারসনস হু আর ব্লাইন্ড, ভিজ্যুয়ালি ইম্পেয়ার্ড অর আদারওয়াইজ প্রিন্ট ডিজেবলড’;

(চ) ‘প্যারিস কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রপার্টি’;

(ছ) ‘পেটেন্ট কোঅপারেশন ট্রিটি’ (৫ বছরের মধ্যে);

(জ) ‘পেটেন্ট ল ট্রিটি’ (৫ বছরের মধ্যে);

(ঝ) ‘সিঙ্গাপুর ট্রিটি অন দ্য ল অফ ট্রেডমার্কস’ (৫ বছরের মধ্যে);

(ঞ) ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অফ নিউ ভ্যারাইটিজ অফ প্ল্যান্টস’ (৫ বছরের মধ্যে);

(ট) ‘WIPO কপিরাইট ট্রিটি’ (৫ বছরের মধ্যে); এবং

(ঠ) ‘WIPO পারফরম্যান্স অ্যান্ড ফোনোগ্রামস ট্রিটি’ (৫ বছরের মধ্যে)।

সেবা এবং বিনিয়োগ

অনুচ্ছেদ ১.১৫: সেবাসমূহ

১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে, বাংলাদেশ ‘জয়েন্ট ইনিশিয়েটিভ অন সার্ভিসেস ডমেস্টিক রেগুলেশন’-এ যোগদান করবে এবং এটি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে WTO কর্তৃক প্রত্যয়নের জন্য বাংলাদেশের সংশোধিত ‘সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারসমূহ’ (Specific Commitments) জমা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক রি-ইন্সুরেন্স সেশন (reinsurance cession) সংক্রান্ত শর্তাবলী অপসারণ করবে। এর মধ্যে মার্কিন বীমাকারীদের জন্য তাদের ব্যবসার অন্তত ৫০% সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (SBC)-এর কাছে পুনঃবীমা করার বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অনুচ্ছেদ ১.১৬: বিনিয়োগ

১. তেল ও গ্যাস, বীমা এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যমান বৈদেশিক মালিকানার ঊর্ধ্বসীমা (foreign equity caps) উদারীকরণ করবে।

২. যেসব ক্ষেত্রে ‘অনাপত্তি সনদ’ (NOC) প্রয়োজন হয়, সেখানে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য তা প্রাপ্তি সহজতর করবে।

৩. মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত মূলধন প্রচলিত বাজার বিনিময়ে হারে অবাধে ব্যবহারযোগ্য মুদ্রায় বাংলাদেশে আনা এবং বাংলাদেশ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এর মধ্যে অনুমোদনের সময়সীমা সম্পর্কিত স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৪. বাংলাদেশ মার্কিন সংস্থাগুলোর অনাদায়ী বকেয়াসমূহ অবিলম্বে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) অর্থায়ন কর্মসূচির অঙ্গীকারের সাথে সংগতি রেখে নিষ্পত্তি করবে।

সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রক চর্চা এবং স্বচ্ছতা

অনুচ্ছেদ ১.১৭: সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রক চর্চা (Good Regulatory Practices)

সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রক চর্চা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ:

(ক) আইন, বিধিমালা, পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ অবিলম্বে প্রকাশ এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে;

(খ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের মূল পাঠ (text), সেইসাথে এর নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণ (RIA), বিধিমালার ব্যাখ্যা এবং এর উদ্দেশ্য অনলাইনে প্রকাশ করবে;

(গ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের জন্য স্বচ্ছভাবে জনমত যাচাই বা পরামর্শ গ্রহণ করবে; আগ্রহী ব্যক্তিদের মন্তব্য প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেবে এবং প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনা করবে;

(ঘ) পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের বিষয়ে যৌক্তিক সময়ের আগে নোটিশ প্রদান করবে এবং নিকট ভবিষ্যতে যেসব নিয়ন্ত্রক নীতি উন্নয়ন, সংশোধন বা বাতিল করা হবে তার অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করবে;

(ঙ) বিধিমালা পরিকল্পনা ও প্রণয়নের সময় যথাযথ ক্ষেত্রে জনসমক্ষে লভ্য উচ্চ-মানের তথ্য, উপাত্ত, কারিগরি তথ্য এবং ঝুঁকি নিরূপণ পদ্ধতি ব্যবহার করবে;

(চ) বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় বাধা এড়াতে যথাযথ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, নির্দেশিকা এবং সুপারিশ ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা সমর্থন করবে;

(ছ) কার্যকর থাকা বিধিমালার পর্যালোচনা করবে যাতে নতুন তথ্য বা অন্য কোনো পরিবর্তনের ফলে বিধিমালা সংশোধন বা বাতিলের প্রয়োজন আছে কি না তা নির্ধারণ করা যায়; এবং

(জ) বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ‘রেগুলেটরি ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস’-এর মতো সরঞ্জামসমূহ ব্যবহার করবে।

অনুচ্ছেদ ১.১৮: দুর্নীতি প্রতিরোধ

দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাপকভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিমালা শক্তিশালীকরণ, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগ করার অঙ্গীকার করছে; দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট দণ্ড ও পরিণাম নির্ধারণ করবে; এবং সরকারি কার্যাবলি সঠিকভাবে সম্পাদন ও সরকারি কর্মকর্তাদের স্বার্থের সংঘাত (conflicts of interest) এড়ানোর জন্য আচরণবিধি গ্রহণ ও বজায় রাখবে। এই লক্ষ্যে, বাংলাদেশ স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ এবং নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জবাবদিহিতা বজায় রাখবে।

শ্রম

অনুচ্ছেদ ১.১৯: শ্রম আইন এবং অন্যান্য পদক্ষেপসমূহ

১. বাংলাদেশ শ্রম আইন (BLA) সংশোধন করবে এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষির (collective bargaining) অধিকার রক্ষায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোসহ প্রয়োজনীয় বিধিমালা জারি করবে:

  • (ক) ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ২০ শতাংশ সদস্যের হার কমিয়ে এমন পর্যায়ে আনা, যা ইউনিয়ন গঠনে বাধা সৃষ্টি করবে না;

  • (খ) কোনো ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের জন্য শ্রম দপ্তরের (DOL) মহাপরিচালকের আবেদনের ক্ষেত্রে শ্রম আদালতের পূর্বানুমোদন গ্রহণের বিধান নিশ্চিত করা;

  • (গ) ইউনিয়ন সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের শর্তাবলী কেবল একটি নম্বরসহ কারখানার পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা;

  • (ঘ) ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য গঠনতন্ত্র গ্রহণের লক্ষ্যে কেবল একটি সাধারণ সভা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা রাখা, যেখানে অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন এবং সভার কার্যবিবরণী জমা দেবেন;

  • (ঙ) ইউনিয়ন-বিরোধী বৈষম্য এবং অনুচিত শ্রম চর্চার (ULP) ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ এমন স্তরে বৃদ্ধি করা, যা নিয়োগকর্তাদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হয়;

  • (চ) শ্রমিকদের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করা যে একটি অনুচিত শ্রম চর্চা (ULP) হিসেবে নিষিদ্ধ, তা স্পষ্ট করা এবং শ্রমিক ও ইউনিয়নগুলো যাতে সরাসরি শ্রম আদালতে ULP মামলা দায়ের করতে পারে তা নিশ্চিত করা; এবং

  • (ছ) ধর্মঘটের অধিকারের ওপর থেকে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ অপসারণ করা, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠান চালুর পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধর্মঘট পালনে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান।

২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (EPZ) শ্রমিকরা ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে চর্চা করতে পারবেন, যার মধ্যে রয়েছে:

  • (ক) এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার দুই বছরের মধ্যে EPZ-সমূহকে বাংলাদেশ শ্রম আইনের (BLA) আওতাভুক্ত করা যাতে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও তাতে যোগ দিতে পারেন, অথবা EPZ শ্রম আইনের আমূল সংস্কার করা যাতে স্বাধীন ইউনিয়ন গঠন করা যায়; এবং

  • (খ) বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সংগতি রেখে EPZ শ্রম আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা, যাতে ধর্মঘটের অধিকারের ওপর কোনো অযৌক্তিক বিধিনিষেধ না থাকে।

৩. ২০২৩ সালের ন্যূনতম মজুরি আন্দোলনের সময় সৃষ্ট মামলাসহ বৈধ ইউনিয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে পোশাক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চলমান ফৌজদারি মামলাসমূহ বাংলাদেশ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার করবে।

৪. বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ এবং নিয়মিত ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা পদ্ধতি গ্রহণ করবে এবং এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে উক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে এবং এরপর প্রতি বছর তা অব্যাহত রাখবে।

৫. শ্রমিকরা যাতে কার্যকরভাবে তাদের ইউনিয়ন করার অধিকার চর্চা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ:

  • (ক) প্রশাসনিক শর্তাবলী পূরণকারী ইউনিয়ন আবেদনসমূহ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৫৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করবে;

  • (খ) শ্রম দপ্তরের (DOL) বর্তমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে সকল প্রক্রিয়াধীন আবেদনের অবস্থা প্রকাশ করবে; এবং

  • (গ) নিবন্ধন সংক্রান্ত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) সংশোধন করবে যাতে শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তারা স্পষ্ট নির্দেশিকা পান এবং নিশ্চিত করবে যে এই SOP সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ।

৬. শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ সহজতর করতে বাংলাদেশ:

  • (ক) শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়াতে বার্ষিক বাজেটে অধিক বরাদ্দ প্রদান, অতিরিক্ত শ্রম পরিদর্শক পদ অনুমোদন, জনবল নিয়োগ এবং শ্রম পরিদর্শকদের পদোন্নতির পথ নিশ্চিত করবে;

  • (খ) নিশ্চিত করবে যে শ্রম পরিদর্শকদের পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শন করার এবং EPZ-সহ বাংলাদেশের সকল কর্মস্থলে শ্রম আইন লঙ্ঘনের (বিশেষ করে জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশু শ্রম সংক্রান্ত) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা ও সম্পদ রয়েছে;

  • (গ) দেশীয় শ্রম, অগ্নি বা ভবন সুরক্ষা মানদণ্ড ও বিধিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির মাত্রা এমন স্তরে বৃদ্ধি করবে যা নিয়ম লঙ্ঘন রোধে সহায়ক হয়; এবং

  • (ঘ) ইউনিয়ন-বিরোধী বৈষম্য, প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অনুচিত শ্রম চর্চাসহ (ULP) বাংলাদেশ শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি করবে।

 

পরিবেশ

অনুচ্ছেদ ১.২০: পরিবেশগত আইন ও নীতিমালা

বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার পরিবেশগত আইন ও নীতিমালা উচ্চ পর্যায়ের পরিবেশগত সুরক্ষা প্রদান করে এবং তা উৎসাহিত করে।

অনুচ্ছেদ ১.২১: অবৈধ গাছ কাটা এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য

১. অবৈধভাবে আহরিত বনজ পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে বন খাতের সুশাসনের জন্য বিদ্যমান আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং বনজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কঠোর দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. বন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা এবং গাছ কাটার অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং একটি সহজলভ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা জনসমক্ষে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে বাংলাদেশ বন খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।

অনুচ্ছেদ ১.২২: সম্পদ সাশ্রয়ী অর্থনীতি (Resource Efficient Economy)

বাংলাদেশ একটি অধিকতর সম্পদ সাশ্রয়ী অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে থাকবে: বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, পণ্যের নকশায় ‘সার্কুলারিটি’ বা চক্রাকার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করা এবং ‘রিভার্স সাপ্লাই চেইন’ সচল করতে বাণিজ্য সহজীকরণ পদ্ধতিগুলোকে ত্বরান্বিত করা।

অনুচ্ছেদ ১.২৩: মৎস্য খাতে ভর্তুকি

১. বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) মৎস্য ভর্তুকি সংক্রান্ত চুক্তি (AFS) গ্রহণ করবে। এর মধ্যে অবৈধ, অনুলিখিত এবং অনিয়ন্ত্রিত (IUU) মৎস্য আহরণ ও অতিরিক্ত আহরিত মজুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ভর্তুকি নিষিদ্ধ করা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. মৎস্য ভর্তুকি সংক্রান্ত চুক্তি (AFS) গ্রহণের পর, বাংলাদেশ উক্ত চুক্তির সকল বাধ্যবাধকতা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবে।

৩. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার মৎস্য খাতের ভর্তুকিগুলো যেন সক্ষমতার অতিরিক্ত আহরণ (overcapacity) এবং অতিরিক্ত মৎস্য শিকারের কারণ না হয়।

অনুচ্ছেদ ১.২৪: টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং আইইউইউ (IUU) মৎস্য আহরণ

১. বাংলাদেশ একটি টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পরিচালনা করবে যা সামুদ্রিক বন্য মৎস্য আহরণ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং হাঙ্গর, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ সামুদ্রিক প্রজাতির দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।

২. IUU মৎস্য আহরণ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার বাস্তবায়ন, নিজস্ব পতাকাবাহী জাহাজকে IUU শিকারে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা এবং সমুদ্রে ধরা মাছের ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ১.২৫: বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য মোকাবিলা

অবৈধভাবে আহরিত বা কেনাবেচা করা বন্য প্রাণী (fauna) এবং উদ্ভিদ (flora) সংক্রান্ত বাণিজ্য মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেবে:

(ক) বন্দরগুলোতে বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের চালানের পরিদর্শন কার্যক্রম বৃদ্ধি;

(খ) বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে পাচার হওয়া অবৈধ বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদ মোকাবিলায় ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং

(গ) বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের ইচ্ছাকৃত আন্তঃরাষ্ট্রীয় পাচারকে ‘গুরুতর অপরাধ’ (serious crime) হিসেবে গণ্য করা।

অনুচ্ছেদ ১.২৬: বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশন (CITES)

বাংলাদেশ CITES-তালিকাভুক্ত প্রজাতিগুলোর বৈধ ও টেকসই বাণিজ্য নিশ্চিত করতে এর বাস্তবায়ন জোরদার করবে। এর অংশ হিসেবে, জাতীয় আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে CITES সচিবালয়ে জমা দেবে।

শুল্ক এবং বাণিজ্য সহজীকরণ

অনুচ্ছেদ ১.২৭: শুল্ক এবং বাণিজ্য সহজীকরণ

১. কোনো পণ্য পরিবহনের জন্য ‘বিল অফ লেডিং’ (bill of lading) কেবল ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে হওয়ার কারণে বাংলাদেশ তার আইনি কার্যকারিতা অস্বীকার করবে না।

২. মার্কিন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কাস্টমসে জমা দেওয়া স্বত্বাধিকারভুক্ত তথ্যসমূহ (proprietary data) অননুমোদিত প্রকাশ থেকে বাংলাদেশ সুরক্ষা দেবে।

৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ‘এক্সপ্রেস শিপমেন্ট’-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ WCO-এর ‘ইমিডিয়েট রিলিজ গাইডলাইনস’ বাস্তবায়ন করবে, যাতে স্বল্প-ঝুঁকির প্যাকেজগুলো দ্রুত খালাস করা হয়।

৪. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাংস, পোল্ট্রি এবং ডিমজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে USDA FSIS থেকে ‘সিস্টেম-টু-সিস্টেম’ ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেশন (eCert) ডেটা গ্রহণের একটি ব্যবস্থা বাংলাদেশ বজায় রাখবে।

ধারা ২: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি

১. ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং কমপ্লায়েন্স খরচ কমানোর পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত তথ্য স্থানান্তরের বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশ তার আইনি কাঠামোর অধীনে ‘গ্লোবাল ক্রস-বর্ডার প্রাইভেসি রুলস’ (CBPR) সিস্টেম এবং ‘গ্লোবাল প্রাইভেসি রিকগনিশন ফর প্রসেসরস’ (PRP) সিস্টেমের সনদগুলোকে স্বীকৃতি দেবে।

২. পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স (PDPO) প্রণয়ন এবং সংশোধনের সময় বাংলাদেশ অংশীজনদের সাথে আলোচনা বৃদ্ধি করবে এবং মার্কিন সরকার ও মার্কিন বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে আসা ফিডব্যাকসমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করা নিশ্চিত করবে।

৩. বাংলাদেশ ‘সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত করবে এবং সাইবার অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করবে।

৪. বাংলাদেশ ২০২১ সালের ‘রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওভার দ্য টপ (OTT) প্ল্যাটফর্মস’ সংশোধন বা বাতিল করবে যাতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড সেবার ক্ষেত্রে ‘ট্রেসেবিলিটি’ (উৎস শনাক্তকরণ) এবং সেবা প্রদানকারী কর্তৃক সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ‘এনক্রিপশন কি’ (encryption keys) প্রকাশের বাধ্যবাধকতা অপসারণ করা যায় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

৫. বাংলাদেশ:

  • (ক) আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU)-এর প্রবিধানের সাথে সংগতি রেখে ৬ গিগাহার্টজ (GHz) স্পেকট্রাম ব্যান্ডের ওপরের অংশ (৬.৪২৫ – ৭.১২৫ GHz) লাইসেন্স-মুক্ত ওয়্যারলেস (WLAN/RLAN) প্রযুক্তির জন্য উন্মুক্ত করবে; এবং

  • (খ) এই ব্যান্ড উন্মুক্ত করার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে, ITU প্রবিধান অনুযায়ী, উক্ত ডিভাইসের প্রত্যয়নের জন্য ‘হোমোলোগেশন’ (homologation) বা মান যাচাই প্রক্রিয়া চালু করবে।

ধারা ৩: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা

১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার বন্দর, লজিস্টিক ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক এবং বাণিজ্যিক নৌবহর এমন ডিজিটাল লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে যা উপযুক্ত সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ রোধে সুরক্ষা এবং অন্য কোনো বিদেশি সরকার কর্তৃক তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।

২. ‘এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনস’ (EAR)-এর আওতাধীন মার্কিন মূল বা মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত পণ্যসমূহের অননুমোদিত রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ হস্তান্তর সীমিত করতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। EAR-এর আওতাভুক্ত পণ্য সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

৩. মার্কিন কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে BIS (Bureau of Industry and Security) বা এর প্রতিনিধিদের কাছে উদ্বেগজনক লেনদেনগুলো শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশ মার্কিন মূল বা মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত পণ্য সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও লেনদেনের তথ্যসমূহ যাচাই এবং বিনিময় করবে।

৪. বাংলাদেশ দেওয়ানি ও ফৌজদারি দণ্ড নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োগ পদ্ধতি গড়ে তুলবে। এছাড়া নিরীক্ষা ও তদন্ত সক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং যথাযথ ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রয়োগমূলক কর্মকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে।

৫. বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চিহ্নিত জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক দেশসমূহের সফটওয়্যার ডিজাইন, উন্নয়ন এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা স্পর্শকাতর প্রযুক্তির সরবরাহ চেইনে (supply chain) সীমিত করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

ধারা ৬: বাণিজ্যিক বিষয়াবলী

অনুচ্ছেদ ৬.১: বেসামরিক বিমান চলাচল খাত

১. বাংলাদেশ তার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) কর্তৃক মার্কিন বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ এবং সেবা ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সুবিধার্থে সচেষ্ট থাকবে।

২. এই লক্ষ্য অর্জনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও অতিরিক্ত বিমান ক্রয়ের বিকল্প (option) রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

অনুচ্ছেদ ৬.২: জ্বালানি সহযোগিতা

১. বাংলাদেশ মার্কিন জ্বালানি পণ্য ক্রয় অথবা বাংলাদেশি বেসরকারি কোম্পানিগুলো কর্তৃক তা ক্রয়ের বিষয়টি সহজতর করার চেষ্টা করবে।

২. এর অংশ হিসেবে আগামী ১৫ বছরে আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ক্রয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ‘অফটেক চুক্তি’ (offtake agreements) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৩: খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষি বাণিজ্য

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মার্কিন কৃষিপণ্য ক্রয় অথবা বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো কর্তৃক তা ক্রয়ের বিষয়টি সহজতর করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যমাত্রাসমূহ হলো:

  • গম: পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর অন্তত ৭,০০,০০০ মেট্রিক টন;

  • সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য: এক বছরে অন্তত ১.২৫ বিলিয়ন ডলার অথবা ২.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন (যেটি কম হয়); এবং

  • তুলা: যার মোট আনুমানিক মূল্য ৩.৫ বিলিয়ন ডলার।

অনুচ্ছেদ ৬.৪: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

বাংলাদেশ মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বৃদ্ধির চেষ্টা করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সীমিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৫: ভর্তুকি সংক্রান্ত স্বচ্ছতা

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ‘ভর্তুকি ও কাউন্টারভেইলিং ব্যবস্থা’ সংক্রান্ত চুক্তির অনুচ্ছেদ ২৫.১ অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার প্রদানকৃত সকল ভর্তুকির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে WTO-তে জমা দেবে।

মূল ইংরেজি চুক্তি:

U.S. BGD Agreement on Reciprocal Trade Final 09FEB2026 LETTER

সতর্কীকরণ ও দায়মুক্তি (Disclaimer):

এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে জনস্বার্থে এবং সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে আমরা এর একটি বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেছি। তবে এটি একটি অনানুষ্ঠানিক অনুবাদ মাত্র। চুক্তির কোনো ধারা বা শব্দের সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা, দাপ্তরিক কার্যক্রম অথবা গভীরতর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল ইংরেজি পাঠ (Original English Text) চূড়ান্ত ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

সহজ রেফারেন্সের জন্য মূল ইংরেজি টেক্সটটি এই নথির সাথে অ্যাটাচমেন্ট (সংযুক্তি) হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। অনুবাদের কোনো সীমাবদ্ধতা বা অসংগতির কারণে উদ্ভূত যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে যেকোনো দাপ্তরিক বা পেশাদার প্রয়োজনে মূল ইংরেজি চুক্তিটি অনুসরণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।