খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে পৌষ ১৪৩২ | ৩১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত প্রখ্যাত থিঙ্ক-ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (CFR) একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে যে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ঘন ঘন সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জানানো হয়েছে।
CFR-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “উচ্চ মাত্রার সন্ত্রাসী কার্যক্রম” সরাসরি দুটি পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি বিশ্লেষকরা মনে করান, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মধ্যেও সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাব্য বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কঠোরভাবে তিক্ত করতে পারে।
প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সীমান্ত ঘটনারও পুনঃমূল্যায়ন করেছে। বিশেষ করে মে মাসে একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটে, যা ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার এক মাস পর ঘটে, স্থান ছিল পহলগাম, জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের প্রতিক্রিয়ায় “অপারেশন সিন্ডুর” চালু করা হয়, যা পাকিস্তানের ভিতরে সন্ত্রাসী ক্যাম্প লক্ষ্য করে।
২০২৫ সালের মূল সামরিক ঘটনা ও ফলাফল
| তারিখ | ঘটনা | ফলাফল |
|---|---|---|
| ৬–৮ মে ২০২৫ | ভারতীয় সেনা পাকিস্তানে সন্ত্রাসী ক্যাম্পে আক্রমণ | ১০০+ সন্ত্রাসী নিরস্ত; ৯টি ক্যাম্প ধ্বংস |
| ৭–১০ মে ২০২৫ | পাকিস্তান ড্রোন আক্রমণের চেষ্টা ভারতীয় লক্ষ্যবস্তুতে | সব ড্রোন প্রতিহত; কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি |
| ১০ মে ২০২৫ | সামরিক নেতৃত্বের সংলাপ উভয়পক্ষের মধ্যে | নিয়ন্ত্রণরেখায় অগ্নিশমিতি; উত্তেজনা কমেছে |
ভারত–পাকিস্তান সীমান্ত ছাড়াও পাকিস্তান–আফগান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর মাসের শুরুতে পাকিস্তান কাবুলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়, যা আফগান গোষ্ঠীর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের কারণ হয়ে ওঠে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ায়।
CFR সতর্ক করে, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে সীমান্ত অতিক্রমকারী সন্ত্রাসীদের প্রবেশে কোনো বৃদ্ধি ২০২৬ সালে “মধ্যম পরিসরের” সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক উদ্যোগ তীব্র করার পাশাপাশি সীমান্ত পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারাবাহিক সতর্কতা ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া সাম্প্রতিক দশকের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করতে পারে।