খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি ৬৮৫ জনকে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের সতর্কতা সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৬৮৫ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উর্ধ্বমুখী। ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর মোট সংখ্যা ৩ হাজার ৭০৯ জনে পৌঁছেছে। এটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২৬ জন, যা নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৪ ঘণ্টায় চারজন বেড়ে, মোট মৃতের সংখ্যা ২৭ জনে পৌঁছেছে সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে। এছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু ১৩ জন নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত হয়েছে ১৫ মার্চ থেকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হাম একটি দ্রুত সংক্রামক রোগ এবং এর প্রাথমিক লক্ষণ যেমন জ্বর, দুর্বলতা, বুক ব্যথা, জন্ডিস, এবং পেট ব্যথা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা ও আইসোলেশন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নিচে সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টার হাম সংক্রান্ত তথ্য ও সামগ্রিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে দেওয়া হলো—
| সূচক | গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য | ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট |
|---|---|---|
| সন্দেহজনক হামের রোগী | ৬৮৫ | ৩,৭০৯ |
| নিশ্চিত হামের রোগী | ২৬ | ৫৮৫ |
| সন্দেহজনক রোগীর মৃত্যু | ৪ | ২৭ |
| নিশ্চিত হামের উপসর্গে মৃত্যু | ২৪ ঘণ্টায় ০ | ১৩ |
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে সতর্কতা, জনসচেতনতা এবং রোগ নিরীক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্তদের সনাক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে স্যানিটেশন, পানির নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ক প্রচারণা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জনগণকে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহারের পাশাপাশি জনসমাগম এড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা মৃত্যুহার কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
সবমিলিয়ে, এই তথ্য প্রকাশ করছে যে হাম এখনও দেশের জনস্বাস্থ্যে একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে বিরাজ করছে। দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং রোগ নিরীক্ষণ কার্যক্রমে জোর দেওয়ার মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।