খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে ৮ দফা দাবি পূরণ না হলে পরদিন থেকে ৭২ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। রবিবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘোষণা দেন।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এই সম্মেলন আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম। তিনি বলেন, ‘১১ আগস্টের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে, পরদিন ১২ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা দেশে সব ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহন—বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইম মুভারসহ পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক পরিবহন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর, যা জাতীয় অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই সেক্টরকে সুশৃঙ্খল, যানজটমুক্ত, দুর্ঘটনামুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত করে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
সাইফুল আলম জানান, সম্প্রতি সরকারের নির্দেশনায় ২০ ও ২৫ বছরের পুরনো বাস ও ট্রাক সড়ক থেকে অপসারণের জন্য বিআরটিএ কার্যক্রম শুরু করার পর, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের মালিক-শ্রমিকরা আঞ্চলিকভাবে ধর্মঘটের ডাক দেন। এর ফলে সারা দেশে পরিবহন ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য গত ২০ জুলাই ঢাকায় একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ একমত হয়ে সরকারকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের দাবিগুলো হলো— সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৯৮ ও ১০৫ নম্বর ধারাসহ অন্যান্য সুপারিশ করা ধারাগুলো সংশোধন করতে হবে। বাণিজ্যিক মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ ২০ ও ২৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ বছর পর্যন্ত বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া যেসব গাড়ি ফিটনেস পাবে না বা বায়ুদূষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করে বলে প্রমাণিত হয়, সেসব গাড়ি নতুন-পুরাতন বিবেচনা যাই হোক না কেন, চলাচলে অযোগ্য ঘোষণা করা করতে হবে। পূর্বে পুরাতন গাড়ি অপসারণের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি শুধুমাত্র মেট্রোপলিটন এলাকায় চলাচল করতে পারবে না। লোকাল জেলায় বিআরটিএ’র ফিটনেস পাওয়া সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
এই বিষয়টি বহাল রাখতে হবে। উল্লিখিত সমস্যা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বিআরটিএ কর্তৃক ২০ ও ২৫ বছরের পুরাতন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিত রাখতে হবে। বাজেটে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর আরোপিত দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর (প্রিজাম্পটিভ ইনকাম ট্যাক্স) কমিয়ে পূর্বের ন্যয় বহাল রাখতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রাস্তা থেকে সরানোর জন্য সহায়ক হিসেবে বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন যানবাহন (বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভার) আমদানির মেয়াদ ৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ১২ বছর করতে হবে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি থানায় আটক হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় দেওয়ার বিধান রয়েছে। যা বাস্তবে কার্যকর করা হয় না। এটা কার্যকর করতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ পুরাতন যানবাহনের জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা তৈরি করতে হবে। মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন (অটো-টেম্পু, অটোরিক্সা) সহ বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদনবিহীন হালকা যানবাহনের পৃথক লেনে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই এসব যানবাহন মহাসড়কে একত্রে চলাচলের কারণে হয়ে থাকে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নবায়ন দ্রুততার সঙ্গে ডেলিভারি দিতে হবে এবং শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, সহ-সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ, সহ-সাধারণ সম্পাদক এম হুমায়ূন কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান প্রমুখ।
খবরওয়ালা/আরডি