খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ফুলপুর পৌরশহরের বালিয়া মোড় এলাকার ইমাদপুর কাকলি রাইস মিলের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্য সার্জেন্ট রেজাউল, বাসচালক আব্দুল বাসেত এবং এক অজ্ঞাতনামা পথচারী। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বাসচালক আব্দুল বাসেতকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অপরদিকে, সেনাসদস্য সার্জেন্ট রেজাউলকে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলেই নিহত হন অজ্ঞাতপরিচয় পথচারী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শেরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহগামী সেনাবাহিনীর গাড়ির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় যানবাহনের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাসড়কে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিম্নে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | ইমাদপুর, কাকলি রাইস মিলের সামনে, ফুলপুর, ময়মনসিংহ |
| সড়ক | ঢাকা-শেরপুর মহাসড়ক |
| সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১১টা |
| সংশ্লিষ্ট যানবাহন | যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর গাড়ি |
| নিহত | ৩ জন |
| আহত | অন্তত ১২–১৫ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ৯ জন (ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) |
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি বা অসাবধানতাবশত একপক্ষের চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সংঘর্ষটি ঘটে থাকতে পারে। নিহত অজ্ঞাত পথচারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কটি ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি। ভারী যানবাহনের চাপ ও নিয়মিত তদারকির অভাবের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।