খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ ৫৯তম জন্মদিনে রবার্তো বাজ্জো স্মৃতির জগৎ খুললেন, যা শুধুমাত্র ফুটবলপ্রেমীদের নয়, সমস্ত ক্রীড়া ইতিহাসপ্রেমীদের মনে অমর হয়ে থাকবে। ইটালির এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার এবং প্লেমেকার ফোর্বস ইতালিয়া সাময়িকীর সামনে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের মুহূর্তগুলো উন্মোচন করলেন।
বাজ্জো বলেন, “শৈশব থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম, একদিন ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলব। কেন আমি এই স্বপ্ন লালন করেছি, তা আমার মনে বিশেষ কোনো স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত নয়। স্বপ্ন তো স্বপ্নই—তার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়ার দরকার নেই।”
তিনি নিজেকে সবসময় একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। “আমি অন্য দশজন মানুষের মতোই একজন। নিজের মধ্যে বিশেষ কিছু খুঁজে পাই না। শুধু ফুটবলের প্রতি আমার অকৃত্রিম অনুরাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই অনুরাগ এত গভীর যে, সকাল থেকে রাত কেটে যায় শুধু ফুটবল নিয়ে ভাবতে। আমি একসময় ঘুমোতে যেতাম ফুটবল নিয়ে।”
রবার্তো বাজ্জো তিনটি ফিফা বিশ্বকাপে ইতালির হয়ে খেলেছেন:
| বিশ্বকাপ বছর | ইতালির অবস্থান | গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত |
|---|---|---|
| ১৯৯০ | তৃতীয় স্থান | হোম টারেইন; শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী |
| ১৯৯৪ | রানার্সআপ | ফাইনাল টাইব্রেকার পেনাল্টি মিস |
| ১৯৯৮ | রাউন্ড অব ১৬ | শেষ আট থেকে পরাজয়; ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন |
বাজ্জোর জীবনে সবচেয়ে ব্যথিত স্মৃতি ১৯৯৪ সালের মার্কিন বিশ্বকাপ ফাইনাল। ফাইনালের টাইব্রেকারে, নির্ধারণী পেনালটি শটে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তের বেদনা এতটাই গভীর ছিল যে, বাজ্জো একবার প্রকাশ করেছিলেন, “ওই পেনালটি মিসের পর আমি মরতে চেয়েছিলাম।”
ফোর্বস ইতালিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বাজ্জো বলেন, “আমি যে কোনো মূল্যে ’৯৪ বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। ফাইনালের আগে রাত জাগা ভাবনার মধ্যে শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—কীভাবে বিশ্বকাপ জিতব। হয়তো আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে আমার বাইসাইকেল কিকে’তে, কিন্তু তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হল। এক কদম দূরে ছিলাম স্বপ্নপূরণের, কিন্তু সেই পেনাল্টি মিস সবকিছু বদলে দিল। আজও সেই কষ্ট বয়ে বেড়াই।”
বাজ্জোর জীবনের এই অধ্যায় শুধু একটি ব্যর্থ শট নয়, এটি একটি ফুটবল লিজেন্ডের মনোবল, অধ্যবসায় এবং আবেগের প্রতীক। তার অনুভূতি প্রমাণ করে, ক্রীড়ার ইতিহাসে কখনও কখনও একটি মুহূর্তই সম্পূর্ণ জীবনের ছাপ রেখে যায়।
আজও রবার্তো বাজ্জোকে স্মরণ করলে শুধু দক্ষতার কথা নয়, তার মানবিকতা, অনুরাগ ও আক্ষেপের গভীরতাও ফুটে ওঠে—যা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।