খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র ‘বেঙ্গল শিল্পালয়’ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার সকালে আয়োজিত এই সফরের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিনিময় এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীদের কর্ম রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের বিষয়টি পুনরায় সামনে এসেছে। রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের কালজয়ী শিল্পকর্মগুলোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ।
বেঙ্গল শিল্পালয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং পরিচালক আতাউর রহমান। সফরের শুরুতে রাষ্ট্রদূত সদ্য সমাপ্ত ‘এস এম সুলতান আর্ট সংরক্ষণ প্রকল্পের’ একটি বিস্তারিত সারসংক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই প্রকল্পটি মূলত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বিশেষ তহবিল (AFCP)-এর সরাসরি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে।
এস এম সুলতানের শিল্পকর্মগুলো বাংলাদেশের মৃত্তিকা ও মানুষের এক অনন্য দলিল। তবে আর্দ্রতা এবং উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তাঁর অনেক কাজই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগটি কেবল চিত্রকর্ম সংস্কারই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার একটি বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরি করেছে।
প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| প্রকল্পের দিক | বিবরণ ও গুরুত্ব |
| মূল লক্ষ্য | এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি। |
| সহযোগিতা | মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ তহবিল (AFCP)। |
| গবেষণা | শিল্প-ইতিহাসের গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে সংস্কার মডেল তৈরি। |
| দক্ষতা উন্নয়ন | বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্প-সংরক্ষণকারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান। |
| আদর্শ | সুলতানের অনন্য জীবনদর্শন ও চিত্রশৈলীর মর্যাদা রক্ষা। |
প্রকল্পের উপস্থাপনা শেষে রাষ্ট্রদূত সুলতান আর্ট সংরক্ষণ স্টুডিও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেখেন কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরনো তৈলচিত্র বা ক্যানভাসকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। এরপর তিনি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান প্রদর্শনী হলে ঘুরে দেখেন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নিজস্ব সংগ্রহের সেরা কিছু শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সবশেষে তিনি ‘বেঙ্গল বই’ প্রাঙ্গণে গিয়ে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকাশনা, ধ্রুপদী সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সম্পর্কিত উদ্যোগগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।
রাষ্ট্রদূতের সাথে এই পরিদর্শনে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও, ডেপুটি ম্যানেজমেন্ট অফিসার জেনিফার জনসন এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর মনিকা শাই। এছাড়াও দূতাবাসের পাবলিক এনগেজমেন্ট স্পেশালিস্ট রাইহানা সুলতানা এবং কো-অর্ডিনেটর ফারোহা সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের শেষে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির সমৃদ্ধি এবং তা আগামীর জন্য সংরক্ষণ করার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাংস্কৃতিক কূটনীতি যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের শিল্পীদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি বৃদ্ধির পথও সুগম হয়েছে। এস এম সুলতানের মতো মহান শিল্পীর কাজগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংরক্ষণ করা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম দায়িত্ব।