খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জামালপুর শহরের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের একটি নিয়মিত তল্লাশিচৌকিতে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের ব্রহ্মপুত্র সেতুর দক্ষিণ পাশে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও তাঁর বড় ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ (২০)। ইসতিয়াক নারায়ণগঞ্জের রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দেলোয়ার মাহমুদ জামালপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় সপরিবারে শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে দেলোয়ার মাহমুদ তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি শেরপুরে যাচ্ছিলেন। পথে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের বসানো তল্লাশিচৌকিতে পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের থামার সংকেত দেন। সংকেত পেয়ে দেলোয়ার মোটরসাইকেলটি থামান। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার ও তাঁর ছেলে ইসতিয়াক নিহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবরার গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা ও নিহতদের স্বজনেরা পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধারে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। এতে উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৩০ মিনিট পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে।
বিক্ষোভকারীরা বেলা দুইটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা জামালপুর-শেরপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান | পুরোনো ফেরিঘাট এলাকা, ব্রহ্মপুত্র সেতুর দক্ষিণ পাশ, জামালপুর। |
| নিহত ব্যক্তি | মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও ইসতিয়াক আহম্মেদ (২০)। |
| আহত | মোহাম্মদ আবরার (৫), জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। |
| অভিযুক্ত যানবাহন | একটি দ্রুতগতির ট্রাক (শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াধীন)। |
| বিক্ষোভের স্থায়িত্ব | বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত (প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা)। |
| মূল অভিযোগ | পুলিশের চাঁদাবাজি ও তল্লাশিকালে অবহেলা। |
নিহত দেলোয়ার মাহমুদের নাতি আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন যে, পুলিশ সদস্যরা প্রায় প্রতিদিন ওই স্থানে তল্লাশিচৌকির নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ মোটরসাইকেলটিকে থামানোর পর অন্য একটি ট্রাককেও থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ট্রাকটি না থেমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে অন্য একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা খায়। রাজ্জাকের অভিযোগ, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে হয়তো তাঁর নানা ও মামাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা জামালপুর ও শেরপুর জেলায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।