খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের প্রস্তুতিকালে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই অভিযানে পাচারচক্রের সাথে জড়িত পাঁচজন সক্রিয় সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলীয় এলাকা দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিপুল সংখ্যক মানুষকে ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কোস্ট গার্ডের বাহারছড়া আউটপোস্ট, শাহপরী দ্বীপ এবং টেকনাফ স্টেশনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে।
অভিযান চলাকালীন সমুদ্রের কচ্ছপিয়া সংলগ্ন এলাকায় একটি সন্দেহজনক বোট বা ট্রলারের গতিবিধি লক্ষ্য করে কোস্ট গার্ড। আভিযানিক দল ট্রলারটিকে থামার সংকেত দিলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ ধাওয়া করে ট্রলারটিকে আটকাতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখানে গাদাগাদি করে রাখা ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।
নিচে উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী ও আটক পাচারকারীদের একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযানের স্থান | কচ্ছপিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা, বাহারছড়া, টেকনাফ। |
| উদ্ধারকৃত মোট সংখ্যা | ৫৫ জন (নারী, শিশু ও পুরুষ)। |
| আটক পাচারকারী | ৫ জন সক্রিয় সদস্য। |
| ভুক্তভোগীদের ধরণ | বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী। |
| পাচারের গন্তব্য | মালয়েশিয়া (সমুদ্রপথে)। |
| পাচারের মূল প্রলোভন | উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতন এবং স্বল্প খরচে বিদেশ যাত্রা। |
উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, পাচারকারী চক্রগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত। তারা অসহায় সাধারণ মানুষ এবং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে প্রলোভনের জাল বিছায়। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে এবং অত্যন্ত কম খরচে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রলুব্ধ করা হয়। জীবন ও জীবিকার সন্ধানে থাকা এই মানুষগুলো শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে রাজি হয়। পাচারকারীরা প্রায়ই তাদের ছোট ও জরাজীর্ণ নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোক তুলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তিবর্গ এবং আটককৃত পাঁচ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় তাদের কঠোর নজরদারি এবং টহল অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সমুদ্র শান্ত থাকায় পাচারকারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়, যা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ড সদা প্রস্তুত রয়েছে।