খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর বিদেশ সফরে অংশগ্রহণকে পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ আসলেও তখনকার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁর অংশগ্রহণে বাধা হিসেবে কাজ করতেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্তত দুটি দেশের আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, যার মধ্যে একটি ছিল কসোভো। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কসোভোর একটি অ্যাসেম্বলিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ‘কি-নোট পেপার’ উপস্থাপনের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সফরে যেতে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে, কাতারের আমির তাঁকে একটি আন্তর্জাতিক সামিটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, যেখানে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রদানের জন্য অন্য কারও অংশগ্রহণ অনুমোদিত ছিল না। রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, এ ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে একটি খসড়া চিঠি পাঠায়, যার ভাষা ইতিমধ্যেই তারা নির্ধারণ করেছিল। চিঠিতে লেখা ছিল, “রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়”। রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই চিঠি তৈরি করার আগে তাঁর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।
চিঠিটি হাতে পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি জানতে পারেন যে, আসলে কাতার থেকে আমন্ত্রণ আসেছিল, এবং খসড়া চিঠি সেই আমন্ত্রণের জবাব হিসেবে পূর্বেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সংবিধানের আলোকে একজন রাষ্ট্রপতি কি সত্যিই “রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে” এত ব্যস্ত থাকেন যে আন্তর্জাতিক সামিটে অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রপতি ওই খসড়া চিঠিতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন যুক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা চিঠি পাঠান। এতে তিনি মন্ত্রণালয়ের আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করেছেন। তবে, রাষ্ট্রপতি জানাচ্ছেন, তার জবাব এখনও মন্ত্রণালয় থেকে পাননি।
রাষ্ট্রপতি মনে করেন, তাঁকে বিদেশ সফরে যেতে না দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর নাম ও পরিচয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আড়াল করা। তাঁর ভাষায়, “তাঁরা চায়নি কোথাও আমার নাম উচ্চারিত হোক বা জনগণ আমাকে চিনুক।” এই আচরণ তাঁকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।
শুধু বিদেশ সফর নয়, দেশের ভেতরেও রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ হলেও, তা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল।
| দেশ | আমন্ত্রণের বছর | অনুষ্ঠানের ধরণ | রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| কসোভো | ২০২৫ | অ্যাসেম্বলিতে কী-নোট পেপার উপস্থাপন | অনুমোদিত হয়নি | পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল |
| কাতার | ২০২৫ | আন্তর্জাতিক সামিটে ভাষণ প্রদান | অনুমোদিত হয়নি | খসড়া চিঠি পাঠিয়ে অংশগ্রহণ ঠেকানো হয় |
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, সরকারের এমন আচরণ তাঁর ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর ছিল। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশে বাধার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।