চট্টগ্রামের হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল ভবনের তৃতীয় তলায় সোমবার ভোর ৫টার দিকে ঘটে যাওয়া গ্যাস বিস্ফোরণে ন্যূনতম নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, “বিস্ফোরণে আহত সবারই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।” আহতদের স্বজনও নিশ্চিত করেছেন, ঢাকা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের নির্দেশ এসেছে।
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের শরীরের বার্নের মাত্রা নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | বার্নের পরিমাণ (%) | রোগী ধরন |
|---|---|---|---|
| শাখাওয়াত হোসেন | ৪৬ | ১০০ | এডাল্ট |
| মো. শিপন | ৩০ | ১০০ | এডাল্ট |
| মো. সুমন | ৪০ | ১০০ | এডাল্ট |
| মো. শাওন | ১৭ | ৮০ | এডাল্ট |
| মো. আনাস | ৭ | ২৫ | শিশু |
| মো. আইমান | ৯ | ২০ | শিশু |
| আয়েশা আক্তার | ৪ | ২৫ | শিশু |
| পাখি আক্তার | ৩৫ | ৪৫ | এডাল্ট |
| রানী আক্তার | ৪০ | ৪৫ | এডাল্ট |
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এডাল্টদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের বেশি বার্ন এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বেশি বার্ন হলে অবস্থা গুরুতর বিবেচিত হয়। সুতরাং, সব আহতরাই আইসিইউ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালিমা মঞ্জিল একটি ছয়তলা ভবন। বিস্ফোরণের ফলে তৃতীয় তলার বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবনের দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলার দরজা ভেঙে গেছে এবং লিফটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, বিস্ফোরণ এলপিজি সিলিন্ডারের কারণে হয়নি। ভবনের রান্নাঘরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইন থেকে গ্যাস লিক হয়ে জমে যাওয়ার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের জরুরি মেরামতের ব্যবস্থা করছে এবং ভবনের অন্যান্য তলাতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর। স্থানীয়রা সতর্ক হয়েছেন, ভবনগুলোতে গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনা চট্টগ্রামের জন্য বড় ধরণের এক সতর্কবার্তা, যেখানে আগুন ও গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি।