নতুন মন্ত্রীর সতর্কতা: বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি বকেয়া

বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিপুল দেনার মুখোমুখি। দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সেক্টর এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুশ্চিন্তার বিষয়।

বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের ধারণা, গরমের শীর্ষে এটি ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। নতুন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, চাহিদা মেটাতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যকর রাখতে হবে। তিনি এটিকে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ আখ্যা দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বকেয়া সম্পর্কিত প্রধান তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

ধারা সংখ্যা/মোট ক্ষমতা/বকেয়া
স্থাপিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৩৬টি (সরকারি ও বেসরকারি)
মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট
সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৬,৭৯৪ মেগাওয়াট (২৩ জুলাই ২০২৫)
বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৪ লক্ষ
বকেয়া ৪৫,০০০ কোটি টাকা
তেলভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রের বকেয়া ১৪,০০০ কোটি টাকা
তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মোট ক্ষমতা ৫,৬৩৭ মেগাওয়াট (২৩% মোট ক্ষমতার মধ্যে)

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করীম বলেছেন, বকেয়া ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবসিডি কম পাওয়া এবং সরকারি অর্থায়নের ঘাটতি পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বকেয়া দ্রুত পরিশোধ না হলে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখা কঠিন হবে। তেলের আমদানি প্রক্রিয়ায় ৪০–৪৫ দিন সময় লাগে, তাই গরমে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেতে পারে। এলসি খোলার সমস্যার কারণে তেলের নিট মজুদ কমে ইতিমধ্যে ৮০,০০০ মেট্রিক টনে নেমেছে।

বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানির ব্যবহার ও চ্যালেঞ্জের সংক্ষিপ্ত তথ্য:

  • মোট উৎপাদনের ৮৮% জ্বালানি নির্ভর।

  • দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে এলএনজি ও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।

  • কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে ভর্তুকি প্রয়োজন; না হলে পিক টাইমে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ কঠিন।

বিশ্লেষক ড. ইজাজ হোসেন বলেছেন, ১৩–১৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন পুরো জ্বালানি আমদানি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। এছাড়া, বিদ্যুতের ভর্তুকি ও লোড ফ্যাক্টর বৃদ্ধি করে কয়লা ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম এবং অন্যান্য বিশ্লেষকরা বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম বিদ্যুৎ খাতকে দুর্বল করেছে। তবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। পিক চাহিদা, শিল্প খাতের গ্যাস সরবরাহ ও লোড ম্যানেজমেন্টের জন্য তেল এখনো অপরিহার্য।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বকেয়া পরিশোধ ও তেল আমদানি নিশ্চিত করে গরমে চাহিদা মেটানো এখন অগ্রাধিকার। তিনি বলেছেন, “যেগুলো বকেয়া আছে তাদের কিছুটা দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালু রাখব, তারপর লংটার্ম পরিকল্পনা করা হবে।”

সংক্ষেপে, বিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, জ্বালানি সংকট, তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ভর্তুকি, এবং গ্রীষ্মে চাহিদা পূরণের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি। নতুন সরকারকে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।