নেদারল্যান্ডসে সোমবার নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। ৩৮ বছর বয়সী মধ্যপন্থী নেতা রব জেটেন দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশ্য সমকামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার দেশকে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে জেটেন চমকপ্রদ জয় অর্জন করেন। তিনি অগ্নিমুখর রাজনীতিক গির্ট উইল্ডার্সের নেতৃত্বাধীন ইসলামবিরোধী কট্টর-ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি (পিভিভি) কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। পিভিভি আগের জোট সরকার থেকে সরে যাওয়ার পর আগাম নির্বাচন ডাকা হয়। উল্লেখ্য, নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থী সরকারটি মাত্র ১১ মাস স্থায়ী হয়েছিল।
জেটেনের ডি৬৬ দল মধ্য-ডানপন্থী সিডিএ এবং উদারপন্থী ভিভিডি দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। যদিও এই জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, তারা ৬৬টি আসনের মাধ্যমে ৯ আসনে পিছিয়ে থাকবে। তবে পার্লামেন্টে জোট গঠন প্রক্রিয়া ১১৭ দিনে সম্পন্ন হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের গঠনের সময়ের ২২৩ দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
নিচের টেবিলে নির্বাচনী ফলাফল ও আসন বিতরণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| দল | রাজনৈতিক দিকনির্দেশ | আসন সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ডি৬৬ | মধ্যপন্থী | 66 | জোট নেতা |
| সিডিএ | মধ্য-ডানপন্থী | 15 | জোট অংশীদার |
| ভিভিডি | উদারপন্থী | 12 | জোট অংশীদার |
| পিভিভি | কট্টর-ডানপন্থী | 66 | প্রধান বিরোধী দল |
নির্বাচনে জয়লাভের পর জেটেন বলেন, “নিজ দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে প্রচারণা চালালে জনতাবাদী আন্দোলনকে পরাজিত করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “নেদারল্যান্ডসকে আবার ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে ফিরিয়ে আনতে চাই, কারণ ইউরোপীয় সহযোগিতা ছাড়া আমরা কিছুই নই।”
জানুয়ারিতে প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারে জোটের তিনটি দল ইউক্রেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার করে এবং ন্যাটো ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃঢ় থাকার ঘোষণা দেয়।
যদিও নতুন সরকার আগের সরকারের মতো এতটা কট্টর-ডানপন্থী নয়, তবু এতে কিছু ‘ডানপন্থী স্বাক্ষর’ রয়ে গেছে। লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক সারা দে ল্যাঞ্জ বলেন, “জোট সরকার বিনিয়োগে ঘাটতি বাড়ানোর পরিবর্তে বাজেট কাটছাঁটের পথ বেছে নিয়েছে এবং নতুন সরকারের অভিবাসন নীতি আগের সরকারের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা বহন করছে।”
দলগুলো পরিবার পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের প্রণয়ন এবং অভিবাসন দমন অভিযানের তৎপরতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি নতুন সরকারের সংমিশ্রিত প্রগ্রেসিভ এবং প্র্যাকটিক্যাল রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের একটি প্রতিফলন।
সর্বশেষে, রব জেটেনের শাসনকাল দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ইউরোপীয় সংহতি, এবং উদারমূলক নীতিমালার মধ্যে পরিচালনার এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে।