খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আনন্দ ও উৎসবের আমেজ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলায়। একটি পোষ্য কুকুরকে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া সামান্য বিবাদ শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পর্যবসিত হয়েছে। লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো নজিরবিহীন এই ঘটনায় পণ্ড হয়ে গেছে বিয়ের সমস্ত সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা। তবে সামাজিক বাধা ও পরিবারের বৈরিতাকে তুচ্ছ করে শেষ পর্যন্ত কনে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উঠেছেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ফতেহপুর জেলার একটি ম্যারেজ হলে ঘটে। কনে তানিয়া কেশরওয়ানি প্রয়াগরাজের বাসিন্দা এবং বর সুমিত কানপুরের অধিবাসী। জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসেই তারা পরিবারের অমতে পালিয়ে গিয়ে আইনত বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিকভাবে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
বিয়ের উৎসব যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক ভোর চারটা নাগাদ গয়না প্রদানের একটি আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। ঠিক সেই সময় কনের অতি প্রিয় পোষ্য কুকুরটি হঠাৎ করে ঘেউ ঘেউ শুরু করে। এতে বিরক্ত হয়ে বরের বাড়ির এক যুবক কুকুরটিকে সজোরে আঘাত করেন। প্রিয় পোষ্যকে আঘাত করায় কনেপক্ষ প্রতিবাদ করলে শুরু হয় বাদানুবাদ, যা দ্রুত এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কথাকাটাকাটি এক পর্যায়ে মারামারিতে গড়ালে দুই পরিবারের সদস্যরা হাতের কাছে থাকা লাঠি, চেয়ার এবং ঘর সাজানোর সরঞ্জাম নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তাণ্ডবে উৎসবের প্যান্ডেলটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। কনেপক্ষের তিনজনের মাথায় গভীর চোট লাগায় তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং হতাহতের তথ্য দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| তারিখ ও সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৪:০০ টা |
| ঘটনাস্থল | ফতেহপুর জেলা, উত্তরপ্রদেশ |
| আহত সংখ্যা | অন্তত ৮ জন (নারীসহ) |
| প্রধান কারণ | কনের পোষ্য কুকুরকে বরের পক্ষ থেকে আঘাত |
| পুলিশি পদক্ষেপ | খাগা থানায় উভয় পক্ষের মামলা ও অভিযোগ |
| পরিবারের সিদ্ধান্ত | সামাজিকভাবে বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত |
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই খাগা থানায় হাজির হয়। উত্তেজনার পারদ এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, সেখানেই দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিকভাবে এই বিয়ে বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে পরিবারের এই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত মেনে নেননি কনে তানিয়া। বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি একা প্রয়াগরাজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কানপুরে সুমিতের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন।
শুরুতে সুমিতের পরিবার তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও তানিয়া নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীর সাথে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান যে, তাদের আইনি বিয়ে বা রেজিস্ট্রি আগেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ফতেহপুরের অনুষ্ঠানটি কেবল একটি উদযাপনের অংশ ছিল, যা পণ্ড হলেও তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলবে না। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার টানে তানিয়া তার শ্বশুরবাড়িতেই আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন।
একটি সামান্য বিষয় থেকে এমন বড় ধরনের সংঘাত উত্তরপ্রদেশের স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তুচ্ছ ঘটনায় বিয়ের মতো পবিত্র উৎসব বাতিল হওয়ার ঘটনাকে অনেকেই অসহিষ্ণুতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তবে তানিয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক প্রজন্মের কাছে সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আইনি বৈধতা ও পারস্পরিক ভালোবাসাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এলাকাটিতে চাঞ্চল্য বিরাজ করলেও নবদম্পতি তাদের নতুন জীবন শুরু করেছেন।