খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তার অভিযোগ অনুযায়ী, চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট।
সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত পোস্টে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে দুটি মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। সেই মন্তব্যে তিনি তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এছাড়া, তিনি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ আরও উল্লেখ করেছেন, রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং চানখাঁরপুল এলাকায় গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, আশুলিয়া লাশ পোড়ানো মামলার আসামি এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামিমের কক্ষে প্রবেশ করলে তাজুল ইসলাম কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বরং তাদেরকে বকাঝকা করেছেন। পরবর্তীতে এই মামলায় এসআই আফজাল রাজসাক্ষী হয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন।
| আসামি/সাক্ষী | সাজা/স্ট্যাটাস |
|---|---|
| ৬ জন আসামি | মৃত্যুদণ্ড |
| ৭ জন আসামি | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড |
| ২ জন আসামি | ৭ বছর করে কারাদণ্ড |
| এসআই শেখ আবজালুল হক | রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) |
সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, চানখাঁরপুলের মামলায় ভিডিওর মাধ্যমে দেখা গেছে এসআই আশরাফুল গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছে, কিন্তু তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে। এছাড়া, রংপুরের আবু সাঈদের মামলায় কেন এসি ইমরানকে অব্যাহতি দেওয়া হলো এবং সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল–মামুনকে কেন রাজসাক্ষী করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কে কী অভিযোগ করছে, তা আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের ফল।” তিনি আরও জানান, “ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগকে আমরা কোনো ধরনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করি না।”
এই ঘটনা ট্রাইব্যুনালের ভিতরে চলমান প্রশাসনিক অস্বস্তি ও দুর্নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের অভিযোগে উঠে এসেছে যে, চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যা বিচার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনের অভিযোগের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা বিষয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।