খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইনজুরি টাইমের নাটকীয় গোলে জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে ইতালির আটলান্টা। অন্য ম্যাচে তিন গোল করে সমতায় ফিরেও অতিরিক্ত সময়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জুভেন্টাস; বরং দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে গ্যালাতাসারাই। এমন শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শেষ হয়েছে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ পর্ব, যেখানে দুই লেগ মিলিয়ে নির্ধারিত হয়েছে নকআউট রাউন্ডের ১৬ দল।
প্লে-অফের শেষ দিনে চারটি দল নিশ্চিত করেছে তাদের টিকিট—রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, আটলান্টা ও গ্যালাতাসারাই। শেষ মুহূর্তের গোল, অতিরিক্ত সময়ের লড়াই এবং ট্যাকটিক্যাল পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ম্যাচগুলো ছিল দর্শকদের জন্য ভরপুর রোমাঞ্চে। বিশেষ করে ডর্টমুন্ড-আটলান্টা দ্বৈরথে যোগ করা সময়ে গোল করে ইতালিয়ান ক্লাবটি যে দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্লেষকদের মহলে।
অন্যদিকে জুভেন্টাস তিন গোল করে সমতা ফেরালেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা অতিরিক্ত সময়ে বড় ব্যবধান তৈরি করে দেয়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্যালাতাসারাই আরও দুই গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয়, যা তুর্কি ক্লাবটির ইউরোপীয় অভিযানে নতুন গতি যোগ করেছে।
এর আগে প্লে-অফের আগের দিনে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ, বোদো/গ্লিমট, নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও বায়ার লেভারকুজেন। এই চারটি দল দুই লেগে কৌশলগত দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের সেরা আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আটটি ক্লাব। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর শক্তিশালী প্রতিনিধিরাই এখানে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।
নিচে শেষ ষোলোয় ওঠা দলগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো—
| যোগ্যতার ধরন | দলসমূহ |
|---|---|
| সরাসরি (গ্রুপ সেরা ৮) | বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, স্পোর্টিং সিপি |
| প্লে-অফ জয়ী (শেষ দিন) | রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, আটলান্টা, গ্যালাতাসারাই |
| প্লে-অফ জয়ী (আগে নিশ্চিত) | আতলেতিকো মাদ্রিদ, বোদো/গ্লিমট, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, বায়ার লেভারকুজেন |
আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলো পর্বের ড্র। সেখানেই নির্ধারিত হবে কোন দল কার মুখোমুখি হবে। ইউরোপীয় ফুটবলের শক্তিধর ক্লাবগুলোর সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই ইতিমধ্যেই সমর্থকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে।
সব মিলিয়ে প্লে-অফ পর্ব প্রমাণ করেছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোনো ম্যাচই আগে থেকে অনুমান করা যায় না। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চলতেই থাকে—আর সেই অনিশ্চয়তাই এই প্রতিযোগিতাকে করে তুলেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মঞ্চ।