খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের কর্নাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে শত কোটি রুপির স্বর্ণ পাচার মামলায় কন্নড় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রান্যা রাও-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এই মামলাটি দেশজুড়ে সমানভাবে আলোচিত এবং এর মাধ্যমে স্বর্ণ পাচারের একটি সুসংগঠিত চক্র উন্মোচিত হয়েছে।
অভিযোগপত্রটি বেঙ্গালুরুর বিশেষ অর্থপাচার প্রতিরোধ আদালতে দাখিল করেছে প্রয়োগকারী অধিদপ্তর। তদন্তকারী সংস্থার মতে, গত এক বছরে প্রায় ১২৭ কিলোগ্রাম স্বর্ণ দুবাই থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে ভারতে আনা হয়েছিল এবং স্থানীয় বাজারে দালাল ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো।
অভিযোগপত্রে রান্যা রাও ছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তরুণ কোন্ডুরু এবং বেল্লারি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাহিল সাকারিয়া জৈন-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, পাচার হওয়া স্বর্ণ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে দেশের ভিতরে ও বাইরে স্থানান্তরিত হতো।
| নাম | বয়স | পেশা/পরিচয় | গ্রেফতারের স্থান ও তারিখ | উদ্ধার স্বর্ণ ও নগদ টাকা |
|---|---|---|---|---|
| রান্যা রাও | ৩৩ বছর | কন্নড় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী | বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর, গত বছর | ১৪.২ কেজি স্বর্ণ, ২.৬ কোটি রুপি স্বর্ণালঙ্কার, ২.৬৭ কোটি রুপি নগদ |
| তরুণ কোন্ডুরু | ২৮ বছর | সহযোগী | তদন্তাধীন | নির্ধারিত হয়নি |
| সাহিল সাকারিয়া জৈন | ৪১ বছর | স্বর্ণ ব্যবসায়ী | তদন্তাধীন | নির্ধারিত হয়নি |
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, রান্যা রাও দুবাই থেকে ফেরার সময় নজরদারিতে ছিলেন। মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে এটি তার চতুর্থ দুবাই সফর হওয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তল্লাশির সময় তিনি শরীরে অলঙ্কার হিসেবে কিছু স্বর্ণ পরেছিলেন এবং পোশাকের ভেতরে অন্য অংশ লুকিয়ে রেখেছিলেন।
তদন্তের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কিলোগ্রাম স্বর্ণ পাচারের জন্য তিনি আনুমানিক ৪–৫ লাখ রুপি কমিশন নিতেন। এটি নগদে লেনদেন হতো এবং অর্থ স্থানান্তরের জন্য হাওলা চ্যানেল ব্যবহার করা হতো।
এর আগে রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর তাকে ১০২ কোটি রুপি জরিমানা করেছে। অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রান্যা রাও-এর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চক্রের অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুবাই থেকে ভারতে এবং পরে বিভিন্ন দেশে স্বর্ণ পাচার দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত ব্যক্তির নাম জড়িত হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বেঙ্গালুরু আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হবে কি না, তা সময়ই দেখাবে, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তরা বর্তমানে রয়েছেন।