খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝালকাঠির নলছিটিতে একজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা স্বল্প সময়ের প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তাঁর বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ সময় তিনি পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ঘটনার মূল ব্যক্তি হলেন রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর (২৫), নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাকিবুল গত প্রায় এক মাস ধরে একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কামদেবপুর গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে স্বল্প সময়ের প্যারোলের আবেদন করা হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর রাকিবুলকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়, যাতে তিনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেন।
জানাজার সময় উপস্থিতরা জানিয়েছেন, রাকিবুলের পায়ে ডান্ডাবেড়ি ছিল, তবে হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল না। জানাজা ও দাফন কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাঁকে পুনরায় কারাগারে হস্তান্তর করা হয়।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুল আলম বলেন, “পরিবারের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের পর রাকিবুলকে স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন। ডান্ডাবেড়ি খুলে দেওয়ার অনুমোদন নেই, কারণ ১২ ঘণ্টার বেশি প্যারোলে রাখার নিয়ম নেই। যা অবস্থায় তাকে কারাগার থেকে বুঝে নেওয়া হয়েছে, আবার সেই অবস্থাতেই ফের হস্তান্তর করা হয়।”
এদিকে, নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার বলেন, “একজন সন্তানের জন্য পিতৃবিয়োগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন পরিস্থিতিতে প্যারোলে এসে জানাজায় অংশ নেওয়াটা নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা রাকিবুলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”
নিচের টেবিলে রাকিবুল ইসলামের জানাজার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলোঃ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর |
| বয়স | ২৫ বছর |
| পদ | সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক |
| গ্রেপ্তারের কারণ | রাজনৈতিক মামলা |
| কারাবন্দী সময় | প্রায় এক মাস |
| জানাজার স্থান | কামদেবপুর গ্রাম, সুবিদপুর ইউনিয়ন |
| প্যারোলের ধরন | স্বল্প সময়ের প্যারোল (১২ ঘণ্টার সীমা) |
| নিরাপত্তা | পুলিশি পাহারা |
| ডান্ডাবেড়ি | জানাজার সময় পরানো ছিল |
| হ্যান্ডকাফ | ছিল না |
| কারাগারে ফেরার সময় | জানাজা শেষে নির্ধারিত সময়ে পুনরায় হস্তান্তর |
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একজন পিতার মৃত্যুতে সন্তানের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিচিতি বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তুলেছে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে স্বল্প সময়ের প্যারোল ব্যবস্থা এবং ডান্ডাবেড়ি রাখার প্রক্রিয়া দেখিয়েছে যে, আইনি সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা হলেও মানবিক দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে।
মোটকথা, রাকিবুল ইসলামের এই অংশগ্রহণ ছিল ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সংমিশ্রণ, যা স্থানীয় সমাজে বিশেষ মনোযোগ সৃষ্টি করেছে।