খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অমর একুশে বইমেলার প্রাণস্পন্দন হলো নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর পাঠকদের উচ্ছ্বাস। তবে এই প্রাণের জোয়ার যখন শিশু-কিশোরদের হাত ধরে আসে, তখন মেলার আবহ হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল। গতকাল উদ্বোধন হওয়ার পর আজ শুক্রবার ছিল ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলার প্রথম ‘শিশুপ্রহর’। পবিত্র রমজান মাসের সংযম আর রোদের তেজ উপেক্ষা করেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ এদিন পরিণত হয়েছিল এক টুকরো রঙিন শৈশবে।
সকাল ১১টায় মেলার দ্বার খুলতেই ছোট ছোট পায়ে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে থাকে ক্ষুদে গ্রন্থানুরাগীরা। কেউ এসেছে মা-বাবার হাত ধরে, কেউ বা দাদার আঙুল ধরে। ছয় বছরের অরিত্রর মতো শত শত শিশুর বায়নায় মুখর ছিল প্রতিটি স্টল। ছবি আঁকার খাতা, রূপকথার গল্প আর সুপারহিরোদের বইয়ের মলাট উল্টে তাদের চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। অভিভাবকেরাও শিশুদের এই বইপ্রীতি দেখে মুগ্ধ। মেলায় আগত এক অভিভাবক জানালেন, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে সন্তানদের বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার এর চেয়ে বড় সুযোগ আর নেই।
এবারের শিশুপ্রহরে শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘পাপেট শো’ বা পুতুলনাচ। কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের শিল্পীদের নিপুণ ছোঁয়ায় অপু ও দিপু নামের দুটি পুতুল যখন মঞ্চে হাজির হয়, তখন শিশুদের আনন্দ আর ধরে না। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে এই পাপেটগুলো শিশুদের বিভিন্ন শিক্ষণীয় বার্তা প্রদান করে—যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, গুরুজনদের মান্য করা এবং বই পড়ার গুরুত্ব। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে’ গানের তালে বাঘ পুতুলের মঞ্চে আসা ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।
পাপেট শোর আয়োজক আসাদুজ্জামান আশিক জানান, তারা কেবল বিনোদন নয়, বরং পাপেট থিয়েটারের মাধ্যমে শিশুদের মনে সমাজের কুসংস্কার দূর করার বীজ বপন করতে চান।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে এ বছর অমর একুশে বইমেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে মেলার বিস্তারিত সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
| দিনের ধরন | প্রবেশের সময় | মেলা সমাপ্তি | বিশেষ আকর্ষণ |
| সাধারণ দিন (রবি – বৃহস্পতি) | দুপুর ২:০০ টা | রাত ৯:০০ টা | সাহিত্য আলোচনা ও নতুন বই |
| ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) | সকাল ১১:০০ টা | রাত ৯:০০ টা | শিশুপ্রহর |
| শিশুপ্রহরের সময়কাল | সকাল ১১:০০ টা | দুপুর ১:০০ টা | পাপেট শো ও সিসিমপুর |
| প্রবেশের শেষ সময় | প্রতিদিন রাত ৮:৩০ টা পর্যন্ত | – | – |
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর মেলা এবার ভিন্ন মাত্রায় সাজানো হয়েছে। স্টলগুলোর বিন্যাস থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া। শিশুদের জন্য নির্ধারিত অংশটি এবার আরও প্রশস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে। ছোটদের বইয়ের স্টলগুলোতে ছড়া, গল্প, বিজ্ঞান ও কমিকস বইয়ের বিশাল সংগ্রহ দেখা গেছে।
পুতুলনাচের পাশাপাশি জনপ্রিয় চরিত্র ‘হালুম’, ‘ইকরি’, ‘শিকু’ ও ‘তুকতুকি’র উপস্থিতিও শিশুদের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। মেলা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল পর্দার বাইরে এসে এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা শিশুদের মনন বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। প্রথম শিশুপ্রহরের এই অভূতপূর্ব সাড়া মেলা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও শিশুপ্রহরগুলোতে এভাবেই প্রাণের সঞ্চার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।